চীনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গ্রামে বন্যার পানিতে একটি সাপের খামার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। খামারটি ভেসে যাওয়ার পর সেখান থেকে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০টি সাপ পালিয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। পালিয়ে যাওয়া সাপগুলোর মধ্যে মারাত্মক বিষধর গোখরাও রয়েছে। এই ঘটনায় কয়েকজন গ্রামবাসী ইতিমধ্যে সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিশেষ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

গুয়াংজি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হেংঝৌ শহরে এই ঘটনা ঘটে। চীনা গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস তাদের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শক্তিশালী টাইফুন মায়সাকের প্রভাবে গুয়াংজি অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নাননিংয়ের অধীন হেংঝৌ এলাকার একাধিক জলাধারের বাঁধ ভেঙে নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়। মঙ্গলবার
(৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, হেংঝৌ শহরের ইউনবিয়াও টাউনশিপের দেংওয়েই গ্রামের ওই সাপের খামারটি বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ার পর বিপুলসংখ্যক সাপ আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, বন্যার পানিতে আটকে পড়া কয়েকজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়েছেন এবং দুর্গম পরিস্থিতির কারণে তারা সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারছেন না। দেংওয়েই গ্রামের কমিটি প্রধান উ ঝি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি ঘটে গত ৬ জুলাই সকালে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যার পানিতে খামারটি ধ্বংস হওয়ার পর অন্তত ৯০০টি সাপ পালিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত একজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উ ঝি অবশ্য জানান, পালিয়ে যাওয়া সব সাপ বিষধর নয়, এর একটি বড় অংশই বিষহীন জলসাপ ও কিং র্যাট স্নেক।
স্থানীয় সাপচাষি লেই জানান, এলাকার খামারগুলোতে মূলত গোখরা, কিং র্যাট স্নেক ও জলসাপ পালন করা হয়। এর মধ্যে কেবল গোখরাই মারাত্মক বিষধর। তবে অধিকাংশ সাপ দীর্ঘ সময় পানির নিচে ডুবে থাকলে সেগুলোর বেশির ভাগই মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে হেংঝৌ জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর এক কর্মকর্তা জানান, সাপের খামার ধ্বংসের বিষয়টি জানার পর সামনের সারির উদ্ধারকর্মীদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পরে সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে জানানো হবে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
দেংওয়েই গ্রামের প্রধান উ ঝি জানান, ঘটনার পর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া আশপাশের গ্রামের এক ডজনের বেশি বাসিন্দা স্বেচ্ছায় একটি বেসামরিক সাপ ধরার দল গঠন করেছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রবেশ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাপ ধরছেন, যাতে নতুন করে আর কেউ আক্রান্ত না হন। দলের সদস্যরা মূলত মাছ ধরার সরঞ্জাম ব্যবহার করে ভাসমান আবর্জনা ও ধ্বংসাবশেষ থেকে সাপ ধরছেন। গ্রামবাসীদের সতর্ক করে ইতিমধ্যে নোটিশ জারি করা হয়েছে। যাদের পেশাদারভাবে সাপ ধরার দক্ষতা নেই, তাদের কোনোভাবেই সাপ ধরার চেষ্টা না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



