
জুমবাংলা ডেস্ক : ত্যাগের মহিমায় চিরভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজাহা বছর ঘুরে আবার এল মুসলমানদের জীবনে। মাত্র একদিন পরেই নামাজ আদায় ও পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজাহা।
শেষ মুহূর্তে এসে বরিশালের পশুর হাটে গরুর দাম বেশ চড়া। তারপরও বাজার ঘুরে পশু কিনছেন ক্রেতারা।
তবে পশু কিনলেও কোরবানির পর তার চামড়া সংগ্রহের জন্য তেমন কোনো প্রস্তুতি নেই বরিশালের চামড়া ব্যবসায়ীদের। তবে বিগত সময়ের মতো বাকিতে চামড়া রেখে গেলে তাতে আপত্তি নেই স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। বিক্রি করতে পারলে কম-বেশি দিয়ে হলেও চুকিয়ে দেবেন মাঠ পর্যায় থেকে সংগ্রহকারীদের টাকা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে গত দুই বছর ধরে বকেয়া রয়েছে অনেক টাকা কিন্তু তারা ঠিকভাবে সে টাকা বুঝিয়ে দিচ্ছে না। এরফলে এ ব্যবসায় শ্রমিক ও পুঁজি খাটিয়ে টিকে থাকা দায় হয়ে যাবে। পাশাপাশি বরিশালের ব্যবসায়ীদের অনেক সময়ই লোকসানে চামড়া বিক্রি করতে হয়। এরপরও যদি সেই টাকা আটকে থাকে, তবে নতুনভাবে ব্যবসায় টাকা লগ্নি করা কতোটা যুক্তিসম্মত তাও হিসাব কষে দেখতে হচ্ছে।
এরই মধ্যে নগরের পদ্মাবতী রোডের যে গলিটি চামড়া পট্টি হিসেবে পরিচিত ছিল সেটি ঘুরে দেখা যায়, সেখানকার সেই চামড়া ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ দোকানঘর ছেড়ে দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ এরইমধ্যে ব্যবসার ধরণ পাল্টে পোশাক ও জুতো স্যান্ডেলের দোকান দিয়েছেন। আর যে ২-১ জন চামড়া সংগ্রহ করতে বা কিনতে চাচ্ছেন তাদেরও আগাম কোনো প্রস্তুতি দেখা যায়নি।
বরিশাল নগরের পদ্মাবতী এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী নাছির বাংলানিউজকে বাংলানিউজকে বলেন, টাকার জন্য ট্যানারি মালিকদের কাছে এসে বসে রয়েছি। তারা কোনো সাড়াশব্দই করছেন না। সরকারের নির্দেশে উপজেলা চেয়ারম্যানদের কাছে টাকা নিয়ে টালবাহানাকীর ট্যানারি মালিকদের তালিকা দেওয়ার পর থেকেই এমন অবস্থা। এখন তারা সরকারের কাছ থেকে টাকা নিতে বলছেন।
তিনি বলেন, টাকা না পেলে নগদে চামড়া কেনা সম্ভব হবে না। আবার ৩০০ টাকায় চামড়া কিনে ৩০০ টাকা খরচ করা চামড়া বিক্রি করে সমান ৬০০ টাকা পাবো কিনা তাও নিশ্চিত নই। তবে কেউ বাকিতে চামড়া রেখে গেলে, আর বিক্রি করতে পারলে গতবারের মতো কম-বেশি যা পারি বুঝিয়ে দিতে পারবো।
বরিশালে আর কে কে চামড়া কিনতে পারেন সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে তিনি বলেন, নিজের খোঁজই রাখতে পারছি না, সেখানে অন্যের খবর কিভাবে পাই।
চামড়ার ব্যবসা আর করছেন না জানিয়ে বরিশালের চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান শাহিন বলেন, এবারে মাসুম, নাছিরসহ ২-৩ জনে চামড়া কিনতে পারে বলে শুনেছেন। আর এ বিষয়ে তাদের সঙ্গেই কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে বরিশালের ব্যবসায়ীদের টাকা আটকে থাকায় স্থানীয় ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীদেরও অবস্থা অনেকটাই খারপা বলে জানিয়েছেন মৌসুমী ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, দাম না থাকায় তারা আগেরমতো চামড়া সংগ্রহ করেন না, এখন মাদরাসা ও এতিমখানার লোকাজনই বিনামূল্যে চামড়া সংগ্রহ করেন এবং নিজেদের পকেট দিয়ে গাড়িভাড়া দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ পৌঁছান। তারা বিক্রি করতে পারলে টাকা দেন, নয়তো আটকে থাকে।
অপরদিকে, টাকা আটকে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি চামড়ার সঙ্গে জড়িত শ্রমিকরাও বেহাল দশায় দিন পার করছেন।
উল্লেখ্য, মাত্র ১ যুগ আগে ২০ জন চামড়া ব্যবসায়ী থাকলেও বর্তমানে ২-৩ জন ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে বরিশাল নগরের চামড়া ব্যবসা। এই ৫ জন ব্যবসায়ী নিজেদের পুঁজি খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন। তাদের হিসেব মতে বিগত বছরগুলোতে কোরবানি ছাড়া বরিশাল থেকে বছরে ৩৬ হাজার চামড়া ঢাকার ট্যানারিগুলোতে গেছে। আর কোরবানিতে বরিশাল থেকে ৩০ হাজারের মতো পশুর চামড়া ট্যানারিতে যেতো।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


