ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক তৈরির যে সুযোগ এসেছে, তা নির্ভর করবে ফারাক্কার পানির চুক্তির ওপর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অবিলম্বে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে পানি সমস্যার সমাধান ও চুক্তি নবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষকে ভরসা রাখতে হবে, বিএনপি দেশের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় দলটির মহাসচিব এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ফারাক্কা দিবস প্রতিরোধের একটা প্রতীক। মাওলানা ভাসানীর সেই প্রতিরোধ ছিলো প্রতিবেশী ভারতের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রাম। সেই আন্দোলনের পেছনে ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এই আন্দোলনের পরই জাতিসংঘে পানি সমস্যার সমাধান চেয়ে তাতে বিশ্ব মহলের সাড়া পেয়েছিলেন তিনি।
তিনি বলেন, শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী হয়ে ফারাক্কায় বাঁধ দেওয়ার অনুমতি দিয়ে চুক্তি করে দেশকে প্রথম বিপদে ফেলেছিলেন। আর পদ্মা ব্যারেজ তৈরির উদ্যোগ নিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এই সরকারের বিরুদ্ধে একটা শক্তি পায়তারা চালাচ্ছে। তাদের মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশের জনগণ কখনোই তা মেনে নেবে না।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ফারাক্কা পানির সমস্যায় পানির পাশাপাশি পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পানির ম্যানেজমেন্ট যেমন থাকার কথা, সেখানে বাধাগ্রস্ত করলে তার আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হয়। ফারাক্কার পানির সবশেষ চুক্তিতে বাংলাদেশ বেশি পানি পায় না।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নদী ফারাক্কা মার্চ সফল করার জন্য অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন মেজর জিয়া। ধর্ম-মত নির্বিশেষে আমরা ন্যায্য অধিকার চাই। তাই সবাই মিলে একটা সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করা প্রয়োজন, তবেই জাতিসংঘ থেকে একটা চাপ তৈরি হতে পারে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সতর্ক করে বলেন, আমাদের পানির প্রবাহ না হলে লবণাক্ততার সমস্যা বাড়বে। পানির ম্যানেজমেন্ট আমাদের মতো করে ঠিক করতে না পারলে এক সময় এই ভাটি অংশ সাগরে বিলীন হয়ে যাবে। তাই উদ্যোগ নিতে হবে। জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি এজন্যই প্রয়োজন ছিরো, কারণ খালে এই বর্ষার পানি আটকে রাখলে পানির সঙ্কট কমবে এবং মাটির শক্তিও বাড়বে। সব কিছুতে সীমালঙ্ঘন করলে বাংলা চুপ থাকবে না উল্লেখ করে তিনি ভারতকে উসকানিমূলক আচরণ পরিহার করতে এবং সবাইকে সচেতন থাকার আহবান জানান।
সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ফারাক্কা বাঁধ সবচেয়ে ক্ষতি করছে ভারতকেই। দুই দেশের ক্ষতি হবে জেনেও ভারতের নীতিনির্ধারকেরা তা না মেনে দুই দেশেই দুর্যোগের সৃষ্টি করেছে। কলকাতার নদীর নাব্যতা ধরে রাখার অজুহাতে একটা দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি করেছে ভারত। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে, তবে তা হতে হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে।
দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, পানি নিয়ে বাংলাদেশের লড়াই এখনও শেষ হয়নি। ফারাক্কা চালু করার নির্দেশনা দিয়েছিল শেখ মুজিব, আর পানি সঙ্কটের বাকি সমস্যা আরও বড়ো করেছে শেখ হাসিনা। সরকার যেভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তাতে গঙ্গা চুক্তির মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
আলোচনা সভায় বিশিষ্ট পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, মওলানা ভাসানীর ফারাক্কা লংমার্চ দেখে ভারত ভয় পেয়েছিলো। দ্বন্দ্ব নয়, বন্ধুত্ব বজায় রেখে যৌথ পরিকল্পনার মাধ্যমে ভারতের থেকে অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশকে বুঝে নেয়ার পথ বের করতে হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



