ইদানীং ‘এগ ফ্রিজিং’ বা ডিম্বাণু সংরক্ষণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। ভবিষ্যতের মাতৃত্ব নিয়ে আগেভাগে পরিকল্পনা করতে এখন অনেক নারীই এই পদ্ধতির কথা ভাবছেন। বলিউডের একাধিক অভিনেত্রীও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত জীবন, কর্মজীবন এবং মাতৃত্বের পরিকল্পনার ভারসাম্য বজায় রাখতেই তারা ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

একসময় বিষয়টি নিয়ে খুব কম আলোচনা হলেও বর্তমানে জনপ্রিয় তারকাদের খোলামেলা বক্তব্যের কারণে নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য, মাতৃত্ব এবং কেরিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে সচেতনতা তৈরি হয়েছে।
ডিম্বাণু সংরক্ষণ বা এগ ফ্রিজিং হলো এমন একটি চিকিৎসাপদ্ধতি, যেখানে নারীর সুস্থ ডিম্বাণু সংগ্রহ করে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সেই ডিম্বাণু ব্যবহার করে গর্ভধারণের চেষ্টা করা যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে সন্তান হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না; বরং মাতৃত্বের সম্ভাবনা ধরে রাখার একটি অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করে।
যে তারকারা ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস
চিকিৎসক মা মধু চোপড়ার পরামর্শে তুলনামূলক কম বয়সেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেন প্রিয়াঙ্কা। তার ভাষ্যমতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের মাতৃত্ব নিয়ে অযথা চাপ কমাতে সাহায্য করেছে এবং কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবন নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নিতে স্বাধীনতা দিয়েছে।
কৃতি শ্যানন
‘মিমি’ ছবির শুটিংয়ের সময় ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেন কৃতি। তিনি জানান, এটি ভবিষ্যতের জন্য নিজের প্রতি একটি দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত। তার মতে, নিজের শরীর ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার প্রতিটি নারীর রয়েছে।
রিচা চাড্ডা
করোনা মহামারির সময় ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন রিচা। তার মতে, নিজের সুবিধাজনক সময়ে মা হওয়ার সম্ভাবনা ধরে রাখার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে।
মোনা সিং
৩৪ বছর বয়সে চিকিৎসকের পরামর্শে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেন মোনা সিং। ভবিষ্যতের পারিবারিক পরিকল্পনার কথা ভেবেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলে অন্য নারীদেরও সচেতন হতে উৎসাহিত করেছেন তিনি।
তানিশা মুখার্জি
৩৯ বছর বয়সে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেন তানিশা। তার মতে, বিয়ে এবং মাতৃত্বকে একসঙ্গে বেঁধে দেখার কোনো প্রয়োজন নেই। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান নারীদের নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা আরও বাড়িয়েছে।
ঈশা গুপ্তা
ভবিষ্যতে মাতৃত্বের সম্ভাবনা অক্ষুণ্ন রাখতেই ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন ঈশা। তিনি মনে করেন, প্রতিটি নারীর নিজের জীবন নিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
আকাঙ্ক্ষা রঞ্জন কাপুর
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণের অভিজ্ঞতা খোলাখুলি ভাগ করে নিয়েছিলেন আকাঙ্ক্ষা। চিকিৎসাপ্রক্রিয়া, শারীরিক পরিবর্তন এবং মানসিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি অনেক তরুণীর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা বাড়িয়েছেন।
একতা কাপুর
জনপ্রিয় টেলিভিশন প্রযোজক একতা কাপুর কর্মজীবনের শুরুতেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেন। পরে সারোগেসির মাধ্যমে তিনি এক পুত্রসন্তানের মা হন।
রাখি সাওয়ান্ত
একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে রাখি জানান, ভবিষ্যতে মা হওয়ার ইচ্ছা থেকেই তিনি ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেছেন। তার মতে, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি নারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
নেহা ধূপিয়া
৩৪ বছর বয়সে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেছিলেন বলে প্রকাশ্যে জানান নেহা ধূপিয়া। ভবিষ্যতের মাতৃত্বের সম্ভাবনা ধরে রাখতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি স্বাভাবিকভাবে দুই সন্তানের মা হন।
মৃণাল ঠাকুর
বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে মৃণাল ঠাকুর ডিম্বাণু সংরক্ষণ নিয়ে ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে এই বিকল্প বিবেচনা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তার বক্তব্য প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনাকে আরও উৎসাহিত করেছে।
উপাসনা কামিনেনি কোনিডেলা
দক্ষিণী তারকা রাম চরণ-এর স্ত্রী উপাসনা কামিনেনি কোনিডেলা ২৯ বছর বয়সে ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন। ব্যক্তিগত ও স্বাস্থ্যগত কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার ভাষায়, ডিম্বাণু সংরক্ষণ নারীদের ভবিষ্যৎ মাতৃত্বের জন্য এক ধরনের ‘সেরা বিমা’। পরবর্তীতে তিনি মা হন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ডিম্বাণু সংরক্ষণ কেবল তারকাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চিকিৎসকদের মতে, বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, ক্যানসারের চিকিৎসা, কেরিয়ার পরিকল্পনা কিংবা ব্যক্তিগত কারণে অনেক নারীই এই পদ্ধতি বেছে নিচ্ছেন। তবে এটি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



