সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জ সদরের প্রাইভেট এ্যাপোলো হাসপাতালে অপারেশনের এক ঘন্টা পর রাফেজা বেগম(৪২) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত রাফেজা বেগম জেলার সাটুরিয়া উপজেলার জান্না গ্রামের আব্দুল করিমের স্ত্রী। সে কিডনীতে পাথর অপসারণের অপারেশন করাতে মানিকগঞ্জ এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হয়।
জানা গেছে, নিহত রাফেজা বেগম কিডনীতে পাথর থাকায় গত রবিবার অপারেশন করানোর জন্য মানিকগঞ্জ এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে ডা: আশরাফুল কবীর ও ডা: নাসিম অপারেশনের জন্য বিকেল ৪.৩০ মিনিটে অপারেশন থিয়েটারে নেয়। প্রায় ২ ঘন্টা অস্ত্রপচারের পর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে অপারেশন শেষে রোগীকে বেডে পাঠানো হয়। বেডে যাওয়ার এক ঘন্টা পর রোগীর মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের আহাজারির সৃষ্টি হয়। পরে রাতেই হাসপাতালে পুলিশ গিয়ে রোগীর স্বজনদের শান্তনা দেন। হাসপাতালে ডিউটি অফিসার না থাকায় অন কলে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট আশরাফুল কবীর মৃত রাফেজা বেগমের কিডনীর পাথর অপারেশন করে। দীর্ঘদিন যাবত এই প্রাইভেট হাসপাতালটি সরকারী বিধি-নিষেধ অমান্য করে অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালনা করে আসছে। আরও জানা যায়, হাসপাতালটিতে ডিউটি অফিসার, ডিপ্লোমাধারী নার্স ও হাসপাতালের ছাড়পত্র নবায়ন ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালটি সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লাইসেন্স নবায়ন করে। এরপর থেকে লাইসেন্স নবায়ন না করেই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এই প্রাইভেট হাসপাতালটি।
নিহত রাফেজা বেগমের স্বামী আব্দুল করিম জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন যাবত কিডনীতে পাথর জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। কিডনীর পাথর অপারেশনের জন্য এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করলে বিকেলে অপারেশন করেন ডা: আশরাফুল কবীর। অপারেশন শেষে বেডে নেয়ার সময় তার স্ত্রী হাত-পা আছড়াতে থাকে। পরে নার্স ২টা ইনজেকশন দিয়ে বলে আপনার স্ত্রী এখন ঘুমাচ্ছে, কথা বলা যাবে না। তিনি আরও জানান, অপারেশনের পর পরই ডা: আশরাফুর কবীর হাসপাতাল ছেড়ে চলে যায়। এরপর আমার স্ত্রী রাত সাড়ে আটটার দিকে মারা যায়।
মানিকগঞ্জ এ্যাপোলো হাসপাতালের মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: তারিক উল হাসান জানান, অপারেশনের সময় আমি হাসপাতালে ছিলাম না। খবর পেয়ে এসে দেখি রোগী মারা গেছে।
এ ব্যাপারে ডা: আশরাফুল করীর বলেন, আমার দায়িত্ব অপারেশন শেষ করে বেডে পৌছে দেয়া। আমিতো ওই হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক নই। আমি চলে আসার পর রোগীর মৃত্যু হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্বায়ী।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডাঃ আনোয়ারুল আমীন আখন্দ বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


