জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘যারা বছরের পর বছর দেশের বাইরে ছিল তারাই এখন আমাদের গুপ্ত আর সুপ্ত বলছে’। তিনি বলেন, অথচ তাদের দেশের মানুষ বিগত ১৭ বছর কোথাও দেখেনি। আমরা কারাগারে ছিলাম, গুম-খুনের শিকার হয়েছি। কারাগারে থাকলে যদি কেউ গুপ্ত হয় তবে আমরা গুপ্ত। কিন্তু আমি কিংবা আমার কর্মীরা দেশ ছেড়ে কেউ পালিয়ে যায়নি। ৫ আগস্ট বিপ্লব না হলে যাদের এ জাতি জীবনেও চোখে দেখত না তারা এখন আমাদের গুপ্ত বলছে! অথচ আমরা শত জুলুম নির্যাতন সহ্য করেও জনগণের পাশেই ছিলাম, আছি এবং থাকব। আমাদের নেতা শহীদ মীর কাসেম আলী আমেরিকা থেকে দেশে চলে এসেছেন। তিনি দেশে আসার আগে তার বন্ধু-শুভাকাক্সক্ষীরা অনুরোধ করেছেন আপনি দেশে আসবেন না। এলে অন্য নেতাদের মতো আপনাকেও জেলে নেওয়া হতে পারে, ফাঁসি দিতে পারে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আমি কোনো অপরাধ করিনি। তাই আমার জেলে যেতে ভয় নেই। আওয়ামী লীগ জেল বা ফাঁসি দিলে দেখ, তবুও আমি দেশে ফিরব। তিনি দেশে এসেছেন এবং আওয়ামী লীগের সাজানো মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিচারের নামে অবিচারের শিকার হয়ে ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছেন, তবুও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি কিংবা আধিপত্যবাদের সঙ্গে আপস করেননি।
গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর গ্রিন রোড সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার মাঠে ঢাকা-১০ আসন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, গতকাল বেলা পৌনে ১২টার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নির্বাচনি জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, ‘বিগত সময়ে শত অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেও আমরা দেশ ছাড়িনি। আমরা ছিলাম, আমরা আছি, আমরা থাকব ইনশা আল্লাহ। আমরা মজলুম ছিলাম, মজলুমের দুঃখ আমরা বুঝি। এ জন্য আমরা কখনো জালিম হব না।’ ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আর যদি কোনো মা-বোনের গায়ে হাত দেওয়া হয়, তাহলে আমরা তাদের ছেড়ে কথা বলব না। এমন ঘটনা যেখানেই ঘটে, সেখানেই তোমরা সাহসী যুবকরা ঝাঁপিয়ে পড়ো, যেভাবে জুলাইয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছো।’ জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এ টি এম মাছুম, মাওলানা আবদুল হালিম প্রমুখ।, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাহ, ডাকসুর ভিপি সাদেক কায়েম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসের সদস্য আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, কুমিল্লা-১০ আসনের ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. ইয়াছিন আরাফাত প্রমুখ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমি জামায়াতে ইসলামীর জন্য ভোট চাইতে আসিনি, এসেছি মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও সমস্যা জানতে এবং সমস্যা সমাধানে আমাদের করণীয় ঠিক করতে। আমরা চাই মানুষকে গোলামির হাত থেকে মুক্ত করে মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে। যারা ভোট চাওয়ার কারণে মায়েদের বুকে লাথি দিয়েছে, যারা মায়েদের কাপড় খুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে তারাই আবার ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে মায়েদের জন্য দরদ দেখাচ্ছে! একদিকে মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছে, অন্যদিকে মায়েদের গায়ে হাত তোলা হচ্ছে, মায়েদের কোপানো হচ্ছে! আমিরে জামায়াত হুঁশিয়ারি করে বলেন, খবরদার সতর্ক হও, মায়েদের কাছে ক্ষমা চাও, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নতুবা মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষায় আমরা চুপ করে থাকব না। চব্বিশের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের বোনদের গায়ে হাত তোলার পর জাতি আর চুপ করে বসে থাকতে পারেনি। আবারও যদি কেউ মা-বোনের গায়ে হাত তোলে তবে জাতি আবার ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রতিহত করবে।
জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে উল্লেখ করে আমিরে জামায়াত বলেন, আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশ। পচা রাজনীতি থেকে দেশকে মুক্ত করতে এবং পরিবর্তনের লক্ষ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের প্রথম ভোট গণভোটের ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব। তার পর সরকার গঠনের জন্য আরেকটি ভোট দিতে হবে। সেই ভোট হবে ন্যায়-ইনসাফের এক মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের ভোট। তিনি বলেন, এ দেশের যুবসমাজ বেকার ভাতা চায়নি, তারা চেয়েছে উই ওয়ান্ট জাস্টিস। তারা ন্যায়বিচার চায়, তারা অধিকার চায়, তারা মানবিক বাংলাদেশ চায়। কিন্তু যারা তাদের বেকার ভাতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তাদের যুবসমাজকে নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই, কোনো কর্মসূচি নেই। জামায়াতে ইসলামীর যুবসমাজকে নিয়ে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসূচি আছে, পরিকল্পনা আছে। সেজন্য জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে যুবসমাজকে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
এপস্টেইন নথি প্রকাশ: ‘ট্রাম্পকে খুশি করতে ইসরায়েলে গিয়ে নেচেছেন-গেয়েছেন মোদি’
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চামড়াশিল্পে বাংলাদেশ নজির স্থাপন করবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। আগামীতে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে এ শিল্পকে রক্ষায় ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা-১০ আসনের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান খুব কঠিন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবলমাত্র সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে ঢাকা-১০ সংসদীয় এলাকার সব সমস্যা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান সম্ভব। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত করতে তিনি ঢাকা-১০ সংসদীয় এলাকার জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


