রঞ্জু খন্দকার : লুনা আক্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেছেন। তিনি চাচ্ছিলেন, ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর করতে। এ লক্ষ্যে তিনি ‘হ্যাসল ফ্রি এডুকেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন করেন। বর্তমানে তিনি লন্ডনের গ্লাসগো ক্যালোডোনিয়ান ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছেন।

লুনা জানান, তাঁর এই যাত্রায় হ্যাসল ফ্রি এডুকেশন সর্বোতোভাবে পাশে ছিল। তিনি শুধু এই প্রতিষ্ঠানে কাগজপত্র জমা দিয়ে নিবন্ধন করেছিলেন। তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদন থেকে শুরু করে বিমানের টিকিট কাটা, বাসা ঠিক করা, এমনকী লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে তাঁকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত সব কাজ করে দিয়েছে হ্যাসল ফ্রি এডুকেশন। আক্ষরিক অর্থেই উচ্চশিক্ষার পথে তাঁর এই যাত্রাকে পুরোপুরি ঝামেলামুক্ত করেছে হ্যাসল ফ্রি এডুকেশন।
শুধু তা-ই নয়, তাঁর এই যাত্রা পথে কোনো ধরনের ফি নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। উলটো একটি ল্যাপটপ কম্পিউটার উপহার পেয়েছেন তিনি।

শুধু লুনা নন, তাঁর মতো আরও অনেক স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীর উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ যাত্রাকে ঝামেলা মুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে হ্যাসল ফ্রি এডুকেশন। ২০১৪ সালে এটি যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২০ সাল থেকে এটি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়াসহসহ বিভিন্ন দেশে কাজ শুরু করে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যে এ পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ভর্তিকে সহজ করে দিয়েছে হ্যাসল ফ্রি এডুকেশন।
প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা বাংলাদেশি যুবক আহসান হাবীব। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। বর্তমানে বাস করছেন ইংল্যান্ডের এসেক্সে। আছেন হ্যাসল ফ্রি এডুকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিদেশে উচ্চশিক্ষার বিষয়ে সেমিনার হয়। সেখানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথে নানা বাধা জয় করে কীভাবে স্বপ্ন পূরণ করা যায়, সে বিষয়ে নানা দিকনির্দেশনা দেয় হ্যাসল ফ্রি এডুকেশন।
ওই সেমিনারে জানানো হয়, উচ্চশিক্ষার পথে যাবতীয় ঝামেলা দূর করতে কাজ করছে হ্যাসল ফ্রি এডুকেশন। বিশেষ করে বাংলাদেশের তরুণদের নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এখানে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি আবেদন থেকে শুরু করে, ভাষাগত দক্ষতা তৈরি, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স বাছাই, টিউশন ফি, বাসা ভাড়া, চাকরির ব্যবস্থা–সর্বোপরি বিদেশে একজন নবীন শিক্ষার্থীকে ‘সেটল’ করার সব কাজই করে দিচ্ছে হ্যাসল ফ্রি এডুকেশন। তা ছাড়া অনেকেই জানেন না, আইইএলটিএস ছাড়া কোন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হওয়া যায়। সেগুলোতেও ভর্তিতে সহযোগিতা করে এই প্রতিষ্ঠানটি।

সেমিনারে অংশ নেওয়া ইতিহাস বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, তাঁরা এই সেমিনার থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষার্থে যাত্রা অনেক সময় নানা প্রতিকূলতায় পূর্ণ থাকে। এমনকী দালালদের খপ্পরে পড়াও বিচিত্র নয়। অনেক সময় সব কাজ এক হাতে করে ওঠাও কষ্টকর। এমন বাস্তবতায় ভর্তি থেকে ভিসা প্রসেসিং–সব কাজ যদি একটি প্রতিষ্ঠানেই করা যায়, এর চেয়ে সুবিধা আর কী হতে পারে?
তাঁরা এমন একটি সেমিনার আয়োজনের জন্য হ্যাসল ফ্রি এডুকেশনের কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন হ্যাসল ফ্রি এডুকেশনের সিইও আহসান হাবীব। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি নিজের যুক্তরাজ্যযাত্রার বিবরণ দেন।
আহসান হাবীব বলেন, তাঁর বাবা ও মা প্রাইমারি ও হাইস্কুল শিক্ষক ছিলেন। তাঁর পক্ষে উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশযাত্রা সহজ ছিল না। অনেক বাধা ছিল। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন ছিল। বাধা পেরিয়েই তিনি আজ লন্ডনে। কিন্তু তাঁর মনে হয়, উচ্চশিক্ষার্থে এই বিদেশযাত্রা আরেকটু সহজ হতে পারত। তাহলে অনেকেই স্বপ্ন পূরণে আগ্রহী হবেন। মূলত এই চিন্তা থেকেই তিনি হ্যাসল ফ্রি এডুকেশন প্রতিষ্ঠা করেন।
হ্যাসল ফ্রি এডুকেশনের মূল কার্যালয় লন্ডনে। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম, ম্যানচেষ্টার ও লিডসে তাদের কার্যালয় রয়েছে।বাংলাদেশে রাজধানী শহর ঢাকা এবং বিভাগীয় শহর বরিশালেও তাদের কার্যালয় রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাঁদের নামে পেইজ (https://www.facebook.com/HassleFreeEducation) রয়েছে। চাইলে সেখানেও যোগাযোগ করা যায়।
অনলাইনে হ্যাসল ফ্রি এডুকেশন পরিচালিত তিন মাসের আইইএলটিএস কোর্সসহ একাধিক ফ্রি কোর্স রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন নাফিজা আক্তার।
তিনি দ্য বেঙ্গল কম্পাসকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি মূলত চারটি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে ৯৫টি, যুক্তরাষ্ট্রে ৮৫টি ও মাল্টায় ১টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এ ছাড়া ফিনল্যান্ডের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়েও তারা শিক্ষার্থী ভর্তি করান। এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁরা শিক্ষার্থীপ্রতি কমিশন হিসেবে ফি পান। এটাই তাঁদের আয়ের উৎস। তাই কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তাঁদের কোনো ফি নিতে হয় না। উল্টো তাঁদের উপহার দেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
‘কেউ যদি আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ওইসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, তাদের আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সব খরচ ফেরতসহ একটি ল্যাপটপ উপহার দিয়ে থাকি আমরা,’ যোগ করেন তিনি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



