Advertisement
জুমবাংলা ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বাংলোর ভেতর থেকে আজাহার উদ্দিন ভূঁইয়া (২৩) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৩০ মে) রাতে ওই হেফাজতকর্মীকে জেলা প্রশাসকের বাংলোর ভেতর থেকে আটক করা হয়। তিনি বাংলোর দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকেছিলেন।

তবে কী কারণে ওই যুবক জেলা প্রশাসকের বাংলোর ভেতরে দেওয়াল টপকে ঢুকেছিলেন পুলিশের কোনো সূত্রই স্পষ্ট করে কোনো কিছু বলতে পারছে না। ঘটনার সময় জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলাখান দাপ্তরিক কাজে চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলেন।

জেলা প্রশাসকের বাংলোর একাধিক সূত্র জানায়, গত রোববার (৩০ মে) রাত ১০টার দিকে ভবনের উত্তর অংশের দেয়াল টপকে বাংলোর ভেতরে প্রবেশ করেন ওই যুবক। পরে বাংলোর নৈশপ্রহরীরা তাকে আটক করেন। এক পর্যায়ে বাংলোর দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাকে (যুবককে) বাংলোর ভেতরে প্রবেশের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। পরবর্তীতে তাকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়। পরে সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে আটক যুবককে একাধিক বেত্রাঘাত করা হলে ওই যুবক বলেন ‘আলহামদুল্লিলা’।

এদিকে জেলা প্রশাসকের বাংলোর মতো স্পর্শকাতর জায়গায় রাতের আধারে ওই ‘হেফাজতকর্মী’ প্রবেশের ঘটনার বিষয়টি যেন সংবাদমাধ্যমে না আসে শুরু থেকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আজ এই প্রতিবেদক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে বিষয়টি জানার পর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে সশরীরে এবং মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। তবে দায়িত্ব সব পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল ইসাম জানান, বিষয়টি নিয়ে সদর সার্কেল স্যারের সঙ্গে কথা বলেন। এর বেশি তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

পরে এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোজাম্মেল রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্যারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনিও বিষয়টি এড়িয়ে যান।

পরে পুলিশের অপর একটি দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে কথা বলার সময় তিনি নাম না প্রকাশ করার শর্তে এ প্রতিবেদকের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম আজাহার উদ্দিন ভূঁইয়া। তার বাড়ি আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের আদিলপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে।

জেলা প্রশাসকের বাংলোয় প্রবেশের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ওই যুবক কেন প্রবেশ করেছিল? বা সে বিশেষ কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কিনা বা তার কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য আছে কিনা সেটি প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদকালে সে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন। পাগলের প্রলাপ করছিলেন। এটা তাদের কোনো কৌশল কিনা সে বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত তাকে গত ২৬ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় পূর্বে দায়ের করা ৩টি মামলায় হেফাজতকর্মী হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসকের বাসভবনে আগন্তুক প্রবেশের ঘটনা জানাজানি হবার পর থেকে সরকারি অফিসার পাড়ায় বসবাসরত কর্মকর্তাদের মাঝে এক ধরনের চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা জেলা প্রশাসকের বাসভবনে প্রবেশকারী যুবক সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কেন তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উঁচু দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করবে? এনিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে অনেকের মাঝে।

এ ব্যাপারে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সহ-সভাপতি আব্দুন নূর বলেন, রাতের আঁধারে জেলা প্রশাসকের বাংলোর মতো স্পর্শকাতর জায়গায় আগন্তুক প্রবেশ করবে বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি উদ্বেগজনক। আমরা চাই বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হউক। গ্রেফতারের পর পাগলের প্রলাপ করা জঙ্গিদের একটি কৌশল হতে পারে। তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।

এদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান বলেন, ‘আমার বাংলোর উঁচু দেয়াল টপকে কেন ওই দাঁড়িটুপি পরা যুবক রাতের আধারে প্রবেশ করবে? নিশ্চয়ই তার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল। তাকে পাগল বলার কোনো অবকাশ নেই। আমি চাই তদন্ত করে ওই যুবকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ভালোভাবে ক্ষতিয়ে দেখার জন্য আমি পুলিশকে বলেছি।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.