Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক : দিনের প্রথম ম্যাচে রান করতে গলদঘর্ম অবস্থা হয়েছিল দুই দলেরই। কিন্তু পরের ম্যাচেই রানোৎসব করল গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম ও মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী। আগে ব্যাট করে আসরের সর্বোচ্চ ১৭৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় চট্টগ্রাম। জবাবে রাজশাহীর ইনিংস থামে ৭ উইকেটে ১৭৫ রানে। ফলে ১ রানে ম্যাচ জিতে নিজেদের অপরাজিত থাকার যাত্রা অব্যাহত রাখল চট্টগ্রাম। অন্যদিকে চতুর্থ ম্যাচে রাজশাহীর এটি দ্বিতীয় পরাজয়।

টুর্নামেন্টের অন্যান্য ম্যাচগুলোর বিপরীত ধারায় বেশি রান হওয়া ম্যাচটিতে দুই দলেরই ওপেনারই খেলেছেন তাদের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের লিটন দাসের ৭৮ রানের ইনিংসের জবাবে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী ওপেনার আনিসুল ইসলাম ইমন খেলেছেন ৫৮ রানের ইনিংস। তবে শেষপর্যন্ত হাসি টিকেছে লিটনের মুখেই। টানা চার ম্যাচ জিতে মাঠ ছেড়েছে চট্টগ্রাম।

১৭৭ রান তাড়া করতে নেমে রাজশাহীকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার আনিসুল ইসলাম ইমন ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ইনিংসের প্রথম বলেই ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শুরু করেন ইমন। পরের ওভারে এক্সট্রা কভার দিয়ে শরীফুলকে চার মারেন শান্ত। নাহিদুলের করা তৃতীয় ওভারে চার মেরে শান্তকে স্ট্রাইক দেন ইমন। শেষ তিন বলে জোড়া ছক্কা হাঁকান রাজশাহী অধিনায়ক, ৩ ওভারে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩০ রান।

শরীফুলের করা প্রথম ওভারে ঠিক ব্যাটে-বলে করতে পারেননি ইমন। সেই শোধটা পরের ওভারেই নিয়ে নেন ২৩ বছর বয়সী এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। প্রথম বলে শান্তর কাছ থেকে সিঙ্গেল পাওয়ার পর শেষ পাঁচ বলে হাঁকান তিন বাউন্ডারি। শেষ বলে আপার কাটে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে দৃষ্টিনন্দন চারের মারে ওভারটি শেষ করেন ইমন।

দুই ওপেনারের সাবলীল ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রামের মতোই পঞ্চম ওভারে দলীয় ফিফটি পূরণ হয় রাজশাহীর। তবে পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে আক্রমণে এসেই জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। ষষ্ঠ ওভারের চতুর্থ বলটি লেগস্ট্যাম্প দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। দূর থেকে খেলার চেষ্টা করেন শান্ত, ব্যাটে আলতো ছুঁয়ে চলে যায় উইকেরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে, ভেঙে যায় ৩৪ বলে ৫৬ রানের জুটি। আউট হওয়ার আগে ২টি করে চার ও ছয়ের মারে ১৪ বলে ২৫ রান করেন শান্ত।

অধিনায়ক ফিরে গেলে মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে জুটি গড়েন ইমন। দুজনের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১২ ওভারে পূরণ হয় দলীয় শতক। নবম ওভারে তাইজুলের ওভারে স্লগ সুইপে ছক্কা হাঁকানোর পর স্কয়ার কাটে বাউন্ডারি মারেন ইমন, তুলে নেন নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন ইমন। দলের আশা বাঁচিয়ে রেখে ৩৫ বলে ৬ চার ও ১ ছয়ের মারে ফিফটি পূরণ করেন তিনি।

তবে এরপর বেশিদূর যেতে পারেননি। জিয়াউর রহমানে নিচু হয়ে আসা ডেলিভারিতে সোজা বোল্ড হয়ে ফেরেন সাজঘরে, খেলেন ৪৪ বলে ৫৮ রানের ইনিংস। ইমনের আগেই অবশ্য সাজঘরে ফিরে যান আশরাফুল। মোসাদ্দেক সৈকতের ওভারে বড় শট খেলতে গিয়ে টপ এজে ধরা পড়েন ফাইন লেগে দাঁড়ানো মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে। আশরাফুলের ব্যাট থেকে আসে ১৯ বলে ২০ রান।

সেট ব্যাটসম্যানদের উইকেট হারিয়ে পুরো দায়িত্ব বর্তায় নিচের দিকে থাকা শেখ মেহেদি হাসান, ফজলে রাব্বি, নুরুল হাসান সোহানদের কাঁধে। শুরু থেকেই চালিয়ে খেলে মেহেদি আউট হন ১৭ বলে ২৫ রান করে। ফজলে রাব্বির ব্যাট থেকে আসে ৯ বলে ১১ রান। ফলে শেষ ১৭ বলে জয়ের জন্য বাকি থাকে ৩৫ রান। তখন উইকেটে ছিলেন সোহান ও ফরহাদ রেজা।

মোস্তাফিজের করা ১৮তম ওভারে একটি ছক্কা হাঁকালেও আসে মাত্র ৮ রান। শরীফুলের করা ১৯তম ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে পরপর চার ও ছয় মেরে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন ফরহাদ রেজা। কিন্তু পঞ্চম বলে সাজঘরে ফিরে যান ৫ বলে ১২ রান করা ফরহাদ। শেষ ওভারে রাজশাহীর লক্ষ্য দাঁড়ায় ৬ বলে ১৪ রান।

শেষ ওভারে বল হাতে আসেন মোস্তাফিজ, প্রথম বলেই সাজঘরের পথ দেখান ১ ছয়ের মারে ৮ রান করা নুরুল সোহানকে। পরের দুই বল ডট খেলেন রনি তালুকদার। তবে চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ফের জমান ম্যাচ, পঞ্চম বলে ব্যাটের কানায় লেগে হয় ৪। শেষ বলে যখন জয়ের জন্য দরকার ৪ রান, তখন লংঅনে মেরে ২ রানই নিতে সক্ষম হন রনি। ফলে ১ রানের রোমাঞ্চকর জয় পায় টেবিল টপার চট্টগ্রাম।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামকে আদর্শ সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। শেখ মেহেদি হাসানের করা ইনিংসের প্রথম ওভারে জোড়া চার দিয়ে শুরু করেন সৌম্য। পরের ওভারে এবাদত হোসেনকে বাউন্ডারিতে পাঠান আরও দুইবার। তৃতীয় ওভারে দায়িত্ব নেন লিটন। শেখ মেহেদিকে তিনিও মারে জোড়া বাউন্ডারি। তিন ওভারে চট্টগ্রামের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩০ রান।

চতুর্থ ওভারে প্রথমবারের মতো সুযোগ তৈরি করে রাজশাহী। ফরহাদ রেজার করা ওভারের প্রথম বলেই ফ্লিক করেন সৌম্য, যা চলে যায় মিডউইকেটে দাঁড়ানো রনি তালুকদারের হাতে। কিন্তু ক্যাচটি ধরলেও নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি রনি। বল হাতে নিয়েই ছুঁয়ে ফেলেন সীমানা দড়ি, প্রথম ছক্কা পায় চট্টগ্রাম। পরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে লিটনকে দেন সৌম্য। পরের তিন বলে টানা তিন বাউন্ডারি হাঁকান লিটন।

এ দুই ওপেনারের তাণ্ডবে মাত্র ২৬ বলেই দলীয় অর্ধশতক পূরণ করে ফেলে চট্টগ্রাম। তবে এরপরই থেমে আসে রানের চাকা। আরও একটি সুযোগ দেন সৌম্য। এবার বাউন্ডারিতে সেটি ধরলেও ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন ফজলে রাব্বি। তবে তার আগেই বলটি সীমানার ভেতরে ঠেলে দিতে সক্ষম হন তিনি। ফলে সে বলে আসে ১ রান। আরাফাত সানির করা সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে দারুণ এক স্লগ সুইপে ইনিংসের দ্বিতীয় ছক্কাটি হাঁকান সৌম্য।

পরের ওভারেই তাকে সাজঘরে পাঠিয়ে দেন মুকিদুল মুগ্ধ। লংঅনে ডাইভিং এফোর্টে দারুণ এক ক্যাচ ধরেন আনিসুল ইসলাম ইমন। দলীয় ৬২ রানের সময় আউট হওয়ার আগে ২৫ বলে ৪ চার ও ২ ছয়ের মারে ৩৪ রান করেন সৌম্য। তার বিদায়ের পর ধীর হয়ে যায় চট্টগ্রামের ইনিংস। আনিসুল ইমনের করা নিজের প্রথম ও ইনিংসের ১১তম ওভারের তৃতীয় বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন (১২ বলে ১১)।

ফরহাদ রেজার করা পরে ওভারে ঠিক একইভাবে বোল্ড হয়ে যান ২ বলে ১ রান করা শামসুর রহমান শুভ। চট্টগ্রামের দলীয় সংগ্রহ তখন ৩ উইকেটে ৯৬ রান। দলের প্রথম ৫০ করতে মাত্র ২৬ বল লাগলেও, দ্বিতীয় পঞ্চাশ করতে তাদের প্রয়োজন হয় দ্বিগুণ অর্থাৎ ৫২টি বল। ইনিংসের ১৩ ওভার শেষে চট্টগ্রামের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ঠিক ১০০ রান। পরের সময়টুকু পুরোপুরি নিজেদের করে নেন লিটন দাস ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, গড়েন ৭২ রানের জুটি।

শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং করতে থাকা লিটন দাস ব্যক্তিগত পঞ্চাশ পূরণ করেন ৩৫ বলে, সাতটি চারের মারে। অপরপ্রান্তে মোসাদ্দেকও খেলতে থাকেন হাত খুলে। এক্সট্রা কভার বাউন্ডারির ওপর দিয়ে হাঁকান নিজের প্রথম ছক্কা। পরে এবাদত হোসেন ওভারে সোজা পাঠান সীমানার বাইরে। এবাদতের করা ১৯তম ওভারে ১টি করে চার ও ছয়ের সঙ্গে ওয়াইড থেকে আসা চারে মোট ২১ রান পায় চট্টগ্রাম। পরে মুগ্ধর করা শেষ ওভারে আসে ১৫ রান।

যার সুবাদে চট্টগ্রামের ইনিংস পৌঁছায় ৫ উইকেটে ১৭৬ রানে। শেষপর্যন্ত লিটন অপরাজিত থাকেন ৯ চার ও ১ ছয়ের মারে ৫৩ বলে ৭৮ রান করে। শেষ ওভারের চতুর্থ বলে আউট হওয়ার আগে ২টি করে চার-ছয়ের মারে ২৮ বলে ৪২ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক।

রাজশাহীর পক্ষে বল হাতে একাই ৩ উইকেট নেন মুকিদুল মুগ্ধ। এছাড়া ফরহাদ রেজা ও আনিসুল ইমনের ঝুলিতে যায় একটি করে উইকেট।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.