বলিউড অভিনেতাদের জীবনে বাবাদের ভূমিকা অনেকটাই আলাদা। সাধারণত তারা সন্তানদের জন্য শক্তির উৎস হয়ে থাকেন। তারকা মায়েদের তুলনায় তারা কমই গণমাধ্যমে আসেন। তবে যখনই সামনে আসেন, নিজেদের ব্যক্তিত্ব ও উপস্থিতির মাধ্যমে আলাদা ছাপ রেখে যান। চলচ্চিত্র জগতের অধিকাংশ বাবা নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন সন্তানদের মাধ্যমে পূরণ করতে চান না। বরং তারা সন্তানদের সাফল্য ও কল্যাণকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। অনেক সময় তারা কেবল একজন অভিভাবকের ভূমিকায় থেকে সন্তানদের পাশে নীরবে সমর্থন জোগান। বলিউডের এমন বাবাকে নিয়ে এই প্রতিবেদন—

সেলিম খান
কিংবদন্তি চিত্রনাট্যকার সেলিম খানকে এই তালিকার অন্যতম সেরা বাবা হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে। সালমান খানের অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই ছেলের পাশে ছিলেন তিনি। বিশেষ করে ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ (১৯৮৯) মুক্তির পর সালমান যখন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান, তখন কীভাবে ইন্ডাস্ট্রিতে চলতে হবে, তা নিয়ে তাকে পরামর্শ দিয়েছেন সেলিম খান। এমনকি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে, সে বিষয়েও ছেলেকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
কঠিন সময়েও ছেলের পাশে অটল ছিলেন সেলিম খান। কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলা কিংবা অন্যান্য আইনি জটিলতার সময় সংবাদমাধ্যমের নানা সমালোচনার মুখেও ছেলেকে রক্ষা করেছেন তিনি। সালমান খানও বিভিন্ন সময় বাবার প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। একবার তিনি বলেছিলেন, “অনেক জন্মেও আমি তাকে বাবা হিসেবে পেতে চাই। তিনি আমার অনুপ্রেরণা এবং সবচেয়ে বড় ভরসা।”
জাভেদ আখতার
সেলিম খানের দীর্ঘদিনের লেখকসঙ্গী জাভেদ আখতারও দায়িত্বশীল একজন বাবা হিসেবে পরিচিত। ১৯৮৪ সালে প্রথম স্ত্রী হানি ইরানিকে ছেড়ে অভিনেত্রী শাবানা আজমিকে বিয়ে করলেও ছেলে ফারহান আখতার ও মেয়ে জোয়া আখতারের প্রতি তার ভালোবাসা কখনো কমেনি। সন্তানদের সবসময়ই অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি। ‘ডন থ্রি’ ঘিরে ফারহান আখতারকে নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে জাভেদ আখতার উদ্বিগ্ন ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে কথাও বলেন বলে জানা যায়। সন্তানের স্বার্থ রক্ষায় সবসময় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি।
অমিতাভ বচ্চনের দুর্বলতা অভিষেক
ভারতীয় সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা তার ছেলে অভিষেক বচ্চন। বাবা-ছেলের সম্পর্ককে বলিউডের অন্যতম সুন্দর সম্পর্ক হিসেবেই দেখা হয়। ঘনিষ্ঠজনদের মতে, তাদের মধ্যে যেমন বন্ধুত্ব রয়েছে, তেমনই গভীর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। একজন বিজ্ঞাপন উদ্যোক্তার ভাষায়, “তারা একে অপরের সঙ্গে মজা করেন, কিন্তু সম্মানের সীমা কখনো অতিক্রম করেন না।” একবার একটি সিনেমায় অভিষেকের ছোট একটি চরিত্র দেখে অমিতাভ অসন্তুষ্ট হন এবং বিষয়টি নিয়ে সরাসরি নির্মাতার সঙ্গে কথা বলেন। ছেলের প্রতি অবহেলা তিনি কখনো মেনে নেন না।
একতা ও তুষারের বিনিয়োগেও নজর জিতেন্দ্রর
ষাটের দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা জিতেন্দ্রকে বলিউডের সবচেয়ে বিচক্ষণ ব্যবসায়ীদের একজন বলা হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি রিয়েল এস্টেট ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে বড় ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। তার মেয়ে একতা কাপুর টেলিভিশন দুনিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী নাম হলেও, বিনোদন ব্যবসার ভিত্তি গড়ে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছেন জিতেন্দ্র। একতার ‘উড়তা পাঞ্জাব’ সিনেমা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে, জিতেন্দ্র মজা করে বলেছিলেন, “সিনেমায় বিনিয়োগ না করে সেই অর্থ তাকে দিলে তিনি শেয়ারবাজারে আরো বেশি লাভ করে দিতে পারতেন।” এর মাধ্যমে মেয়ের প্রতি তার উদ্বেগ ও সুরক্ষার মনোভাবই ফুটে ওঠে। ছেলে তুষার কাপুরও বাবার ব্যবসায়িক দক্ষতার প্রশংসা করে থাকেন এবং তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ছেলেদের পাশে ছিলেন ধর্মেন্দ্র
বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র শুধু পর্দার নায়কই নন, বাস্তব জীবনেও ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীল ও রক্ষণশীল বাবা। সানি দেওল ও ববি দেওল সবসময় বাবাকে গভীর শ্রদ্ধা করতেন। অন্যদিকে, ধর্মেন্দ্রও দুই ছেলেকে অগাধ ভালোবাসা দিয়েছেন। ‘গদর টু’ ও ‘অ্যানিম্যাল’ সিনেমার সাফল্যের আগে দেওল পরিবারের জনপ্রিয়তা কিছুটা ম্লান হয়ে পড়েছিল, তখন ছেলেদের প্রাপ্য সম্মান ও সাফল্য না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে সানি ও ববির সাফল্যে দারুণ আনন্দিত হন ধর্মেন্দ্র।
এক অনুষ্ঠানে ধর্মেন্দ্র বলেছিলেন, “ওরা দুজনই খুব লাজুক। জীবনে অনেক কঠিন সময় পার করেছে। তবে তারা জানত, আমি সবসময় তাদের পাশে আছি।” ভারতীয় চলচ্চিত্রে দেওল পরিবারের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, “কাপুর, আনন্দ, খান্না, বচ্চন কিংবা খান পরিবারের মতো দেওল পরিবারও হিন্দি সিনেমায় অবদান রেখেছে। আমি কৃতজ্ঞ যে, ২০২৩ সালে আমার ছেলেরা এবং আমিও আবার নতুনভাবে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি।”
*দ্য ফ্রি প্রেস জার্নাল অবলম্বনে
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



