তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয় পেলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে সমীকরণের মুখে পড়েছেন অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলনাড়ু ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে)। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে দেখা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই মেগাস্টার।
বিধানসভার চিত্র ও পরিসংখ্যান
তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিজয়ের দল ১০৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। তবে বিধানসভায় এককভাবে সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। অর্থাৎ, লক্ষ্যমাত্রা থেকে এখনো ১০টি আসন দূরে রয়েছে টিভিকে। অন্যদিকে, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে ৫৯টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
ক্ষমতায় বসার সম্ভাব্য দুই সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের সামনে বর্তমানে দুটি পথ খোলা রয়েছে:
১. জোট সরকার: সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে বিজয় অন্য দলগুলোর সঙ্গে জোট বাঁধতে পারেন। এরই মধ্যে ৫টি আসন পাওয়া কংগ্রেসের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছেন তিনি। তবে কংগ্রেস সমর্থন দিলেও ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করতে তাঁর আরও ৫ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন হবে।
২. সংখ্যালঘু সরকার: ১০৮টি আসন নিয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে বিজয় সংখ্যালঘু সরকার গঠনের দাবি জানাতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি হলো, প্রতিটি নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত বা আইন পাসের সময় তাঁকে অন্য দলগুলোর মর্জির ওপর নির্ভর করতে হবে।
বাড়তি চ্যালেঞ্জ
বিজয় নিজে দুটি আসন থেকে জয়ী হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন তাঁকে ছেড়ে দিতে হবে। এছাড়া স্পিকারের পদটি যদি তাঁর দল থেকে হয়, তবে ভোটাভুটির সময় সেই ভোটটি গণনা করা যাবে না। সব মিলিয়ে স্থিতিশীল সরকার টিকিয়ে রাখতে বিজয়ের জন্য আরও ১২ জন বিধায়কের সমর্থন পাওয়া অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডিএমকের সম্ভাবনা
সংবিধান অনুযায়ী, বিজয় যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে ব্যর্থ হন, তবে রাজ্যপাল দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে এম কে স্ট্যালিনের ডিএমকে-কে সরকার গঠনের আহ্বান জানাতে পারেন। ফলে তামিলনাড়ুর মসনদে শেষ পর্যন্ত কে বসছেন, তা জানতে এখন সবার নজর রাজভবনের দিকে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


