স্পোর্টস ডেস্ক : সিপিএল চলাকালীন সময়ে জাতীয় দলের খেলা থাকায় শুরুতে কোনো দলে নাম লেখাননি সাকিব আল হাসান। তবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে দলে টানার জন্য ঠিকই সুযোগে ছিল দলগুলো। তাই যেনো আফগানিস্তান সিরিজের শেষ দিকে বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টস সুযোগ পেয়েই দলে ভেড়ায় সাকিবকে। কেমন কাটলো বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের এবারের সিপিএল? সেটি নিয়েই ডেইলি বাংলাদেশ পাঠকদের জন্য আজকের আয়োজন।
সাকিবকে দলে টানতে পেরে শুরু থেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টস। যে সময়ে তিনি দলে যোগ দেন সে সময় পয়েন্ট টেবিলের চারে অবস্থান করছিল দলটি। সাত ম্যাচে মাত্র তিন জয়ে প্লে অফ নিশ্চিত করা কঠিন ছিল তাদের জন্য। তবে সাকিব দলে যোগ দেয়ার পরেই যেনো পাল্টে যায় দলের চেহারা। গ্রুপ পর্বের বাকি থাকা তিন ম্যাচের দুটিতেই জিতে দ্বিতীয় দল হিসেবে উঠে যায় প্রথম কোয়ালিফায়ারে।

582226799

Advertisement
নিজের প্রথম ম্যাচেই আলো ছড়ান সাকিব। সে ম্যাচে শুরুতে বল হাতে চার ওভার করে এক মেডেনে ১৪ রানের বিনিময়ে শিকার করেন ব্র্যাথওয়েটকে। ব্যাট হাতেও খেলেন ২৫ বলে ৩৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। তবে মাত্র এক রানে হেরে যায় তার দল।

নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও অলরাউন্ড পারফরমেন্স দেখান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এ ম্যাচে শুরুতে ব্যাট করে ২১ বলে দুই বাউন্ডারির সাহায্যে ২২ রান করেন। বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান দেন। বিনিময়ে শিকার করেন কলিন ইনগ্রামকে।

ত্রিনবাগো নাইটরাইডার্সের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে এবারের টুর্নামেন্টে নিজের সেরা বোলিং করেন সাকিব। ৪ ওভারে ২৫ রান দিলেও দুই ওপেনার জিমি নিশাম ও লেন্ডল সিমন্সকে প্যাভিলিয়নে ফেরান তিনি। ব্যাট হাতে ১৪ বলে ১৩ রান করলেও দলের জয় আসে সহজেই। পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় দল হয়ে বার্বাডোজ উঠে যায় প্রথম কোয়ালিফায়ারে।

প্লে অফের প্রথম ম্যাচে গায়ানার কাছে হেরে যায় বার্বাডোজ। একইসঙ্গে নিজের ফর্মটাও যেনো হারিয়ে ফেলেন সাকিব আল হাসান। গ্রুপপর্বের ১০ ম্যাচেই জয়লাভ করা গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে বল হাতে বাজে একটি ম্যাচ কাটান তিনি। ৪ ওভার বল করে কোনো উইকেট না পেলেও খরচ করেন ৪৬ রান। মূলত শেষ ওভারে ২৯ রান দেয়াই তার ম্যাচ ফিগার এতোটা খারাপ করে দেয়। অন্যথায় আগের তিন ওভারে ১৭ রান দিয়ে রানের চাকা আটকে রেখেছিলেন ভালোভাবেই।

বাঁচা মরার ম্যাচ এলিমিনেটরে ব্যাট হাতে মোটামুটি ভালো সাপোর্ট দেন সাকিব। তার ১২ বলে ১৮ রানের সৌজন্যে লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায় বার্বাডোজ। বল হাতে দুই ওভারে ২৭ রান দিলেও উইকেট পাননি। তবে ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠে যায় তার দল।

একটানা ১১ ম্যাচ জেতা যেকোনো দলের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচ জেতা কঠিন। এই সিপিএলেই গায়ানার সঙ্গে আগের তিনবারের দেখায় তিনবারই হেরে গিয়েছিল বার্বাডোজ। তবে দানে দানে চার দানে ম্যাচ জিতে যায় সাকিবের দল। একইসঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তোলে তারা। ফাইনালে ভালো শুরুতে বড় কিছুর সম্ভাবনা দেখালেও রান আউটের জন্য ইনিংস বড় করতে পারেননি সাকিব। প্যাভিলয়নে ফেরার আগে ১৫ বলে ১৫ রান করেন তিনি। দুই ওভার হাত ঘুরিয়ে ১৮ রান দিলেও উইকেট পাননি। তবে ইনিংসের শুরুতেই দুর্দান্ত একটি ক্যাচ তালুবন্দী করে গায়ানাকে চাপে ফেলেন, যা বার্বাডোজের জয় সহজ করে।

এই আসরে সব মিলিয়ে ৬ ম্যাচ খেলেছেন সাকিব আল হাসান। ১১৫.৬২ স্ট্রাইকরেটে সংগ্রহ করেছেন ১১১ রান। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১৮.৫০ ব্যাটিং গড়ও খারাপ নয় মোটেও। ছয় ম্যাচে ৯ বার বলকে সীমানা ছাড়া করেছেন। এর মাঝে ছক্কা ছিল দুটি। বল হাতেও খারাপ করেননি তিনি। ছয় ম্যাচেই বল করে শিকার করেছেন ৪টি উইকেট। তবে বাঁ-হাতি স্পিনে ৭.৫০ ইকোনমিক রেট বুঝিয়ে দেয় ব্যাটসম্যানদের সহজে রান করতে দেননি তিনি।

অলরাউন্ড পারফরমেন্সে দলকে শিরোপা জেতাতে ভালো অবদান রাখেন সাকিব। ফলে এবারের সিপিএল মোটামুটি ভালো খেলেছেন, উপসংহারে এমন কিছু বলাই যায়।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google