10-1910121013

Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জয়কুমার যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জন বিজ্ঞানী। তিনি এই মুহূর্তে ন্যানো টেকনোলজি‚ন্যানো অক্সিলেটর এবং ন্যানোস্কেল ডিভাইজ অ্যাপ্লিকেশন এবং আর্কিটেকচর নিয়ে গবেষণা করছেন।

জীবনে সফল হওয়ার স্বপ্ন জয়কুমার দেখেছিলেন মুম্বাইয়ের কুর্লা অঞ্চলের বস্তির একটা ৮ বাই ১০ স্কোয়ার ফিটের বাড়িতে বসে। তবে এই গল্পের সত্যিকারের ‘হিরো’ হলেন তার মা নলিনী।

মা বহু কষ্ট করে অর্থ জোগাড় করে পড়াশোনা চালানোর চেষ্টা করেছেন। ছেলে জয়কুমার বৈদ্যের জীবনে এমনও সময় গেছে যখন স্কুলের বেতন না দিতে পারায় পরীক্ষার রেজাল্ট আটকে দেয়া হয়েছে।

শ্বশুরবাড়ি থেকে জয়কুমারের মা নলিনীকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। পরে স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ছোট ছেলেকে নিয়ে নলিনী তার মায়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। নলিনীর মা অফিসের এক জন কেরানি ছিলেন। কোনো রকমে সংসার চলে যাচ্ছিল তাদের। কিন্তু ২০০৩ সালে অসুস্থ হওয়ার ফলে চাকরি যায় তার। ফলে জীবন যুদ্ধে নামতে হয় নলিনীকে।

ছোটখাটো কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। অন্য দিকে নিয়মিত নলিনীকে আদালতেও ছোটাছুটি করতে হত বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় লড়তে। এই ভাবে নয় বছর কাটে। এমনও সময় গেছে যখন জয়কুমার শুধু মাত্র বাসি পচা বড়াপাও, সিঙারা, পাউঁরুটি আর চা খেয়ে দিন পার করেছেন।

বহু বছর কষ্টের পর কষ্ট করার পর স্থানীয় এক মন্দির জয়কুমার আর নলিনীর ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয়। মন্দির ট্রাস্টের দয়াতেই স্কুল এবং কলেজ পাশ করেন জয়কুমার। অনেকেই হয়তো ভাবছেন ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন কী করে দেখলেন জয়কুমার?

এক বার এক বন্ধুর বাড়িতে ডিসকভারি চ্যানেলে একটা অনুষ্ঠান দেখেন জয়কুমার। দেখেন মহাকাশ সম্পর্কিত একটি সিনেমাও। সেই দিনই বিজ্ঞানী হওয়ার বীজ রোপণ হয় তার মধ্যে।

ছেলের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে নলিনী জয়কুমারকে উৎসাহ দিতেন। এই সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে জয়কুমার বলেন, এক মাত্র মা আমাকে সারা জীবন উৎসাহ দিয়ে গেছেন। মায়ের কারণে হার মানিনি। অনেক বার মনে হয়েছে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই। তাতে অন্তত এক জনের খাওয়ার খরচ বাঁচতো। কিন্তু মায়ের কথা ভেবে তা পারিনি। মা আমার প্রেরণা। মায়ের জন্য সফল হতে চাই এবং অন্যদের সাহায্য করতে চাই। আগামী দুই বছরে তিনি তার মাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যেতে চান।

ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় জয়কুমার একটা টিভি মেরামতের দোকানে কাজ নেন। এ ছাড়াও কুর্লা অঞ্চলের একটা কাপড়ের দোকানেও কাজ করতেন। মাসে মাত্র চার হাজার টাকা রোজগার ছিল তখন। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় রোবোটিক্সে উনি তিনটে জাতীয় এবং চারটে রাজ্য স্তরে পুরস্কার জেতেন। এর ফলে উনি লার্সেন অ্যান্ড টুব্রোতে একটা ইনটার্নসিপের সুযোগ পান। স্নাতক হওয়ার পর জয়কুমার টাটা ইনস্টিটিউট-এ রিসার্চ করার সুযোগ পান। তখন তার মাসিক রোজগার দাঁড়ায় তিরিশ হাজার টাকা। তিনি তা দিয়ে বাড়ি মেরামত করেন এবং মাকে একটা এয়ারকন্ডিশন কিনে দেন।

তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন জয়কুমার। এরইমধ্যেই তার দু’টো গবেষণাপত্র নামকরা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। জয়কুমার চান ভবিষ্যতে হার্ডওয়্যার টেকনোলজিতে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠুক তার দেশ। এই মুহুর্তে জয়কুমার যত টাকা বৃত্তি পান। তার মধ্যে নিজের জন্য সামান্য কিছু রেখে বাকিটা মাকে পাঠিয়ে দেন।

তিনি বলেন, আমার গবেষণা শেষ হয়ে গেলে কিছু দিন চাকরি করতে চাই। তার পর দেশে ফিরে গিয়ে নিজের কারখানা খোলার ইচ্ছা আছে। আর চাই মেধাবী দুঃস্থ বাচ্চাদের সাহায্য করতে। আপাতত স্বপ্ন এখানেই থিতু হয়েছে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.