স্বর্ণের দাম আরও এক দফা কমলো দেশের বাজারে, যা সাধারণ ক্রেতা ও গয়না প্রেমীদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মেলাতে কিংবা স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই দাম প্রায়ই ওঠানামা করে। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় তারা নতুন করে এই মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হবে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা। যা আগের চেয়ে ভরিপ্রতি ২ হাজার ১৫৮ টাকা কম। আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশে এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।
সাধারণত বিয়ের মৌসুম বা উৎসবের সময় স্বর্ণের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। তবে পর পর দুদিন দাম কমার ফলে যারা গয়না কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি ভালো সুযোগ হতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
স্বর্ণের মান অনুযায়ী দামের এই পরিবর্তন শুধু ২২ ক্যারেটেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ২১ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন পাওয়া যাবে ২ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৬ টাকায়। অন্যদিকে ১৮ ক্যারেটের ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকা।
যাঁরা একটু পুরনো ধাঁচের বা সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ পছন্দ করেন বা সংগ্রহে রাখতে চান, তাঁদের জন্য প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকা। বাজুস মনে করছে, বর্তমান বৈশ্বিক ও স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই দাম সমন্বয় করাটা জরুরি ছিল।
মজার ব্যাপার হলো, চলতি বছরের এই অল্প সময়েই স্বর্ণের দাম মোট ৪২ বার পরিবর্তন করা হলো। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ২৬ বার আর কমানো হয়েছে ১৬ বার। এই ঘনঘন পরিবর্তন এটাই প্রমাণ করে যে স্বর্ণের বাজার এখন কতটা অস্থির এবং সংবেদনশীল।
ঠিক এক দিন আগেই অর্থাৎ ১২ মার্চ স্বর্ণের দাম এক দফায় ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আজ আবার দাম কমানোর ঘোষণা এলো। সব মিলিয়ে গত দুদিনে স্বর্ণের দাম বেশ খানিকটা কমেছে।
দেশের বাজারে যখন কোনো কিছুর দাম একবার বাড়ে, তা সহজে কমতে চায় না—এমন একটি ধারণা প্রচলিত থাকলেও স্বর্ণের ক্ষেত্রে বাজুস নিয়মিত ব্যবধানে দাম সমন্বয় করে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। এতে করে চোরাচালান রোধ এবং বৈধ পথে ব্যবসা পরিচালনার পথ সুগম হয়।
বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির নানা সমীকরণের ওপর ভিত্তি করে স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়। বিশেষ করে ডলারের দাম কিংবা বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ মজুত করার প্রবণতা এই বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশের বাজারেও তার ঢেউ এসে লাগে বারবার।
এই দাম কমার ফলে জুয়েলারি দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়তে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। ছুটির দিনে এমন ঘোষণা আসায় অনেক পরিবারই হয়তো আজ বাজারে গিয়ে পছন্দের গয়নাটি সাশ্রয়ী মূল্যে কেনার কথা ভাবছেন।
আরও পড়ুনঃ
আপাতত এই নতুন দামেই কেনাবেচা চলবে সারা দেশে। তবে আগামী দিনগুলোতে এই প্রবণতা বজায় থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির ওপর। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বাজুস কর্তৃপক্ষ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


