স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং নানা রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রতিদিন হাঁটার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। সাধারণভাবে দিনে প্রায় ৩০ মিনিট হাঁটা শরীরের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে—এই সাধারণ অভ্যাসটি কি সত্যিই হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে?

কারণ এখনো বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো হৃদরোগ। অনেকেই মনে করেন হৃদরোগ এড়াতে হলে কঠিন ব্যায়াম বা জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। কিন্তু ব্যস্ত সময়সূচি ও অনিয়মিত জীবনধারা অনেকের জন্য তা কঠিন করে তোলে।
হৃদরোগের ঝুঁকির কারণ
অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রমের অভাব হৃদরোগের বড় কারণ। এসব কারণে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া, স্থূলতা এবং ইনসুলিন প্রতিরোধের মতো সমস্যা দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে এসব সমস্যা হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়—এমনকি তরুণদের মধ্যেও।
গবেষণায় যা জানা গেছে
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকেন তাদের মধ্যে হৃদরোগজনিত ঘটনার হার কম। তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় ব্যক্তিদের ঝুঁকি কম সক্রিয়দের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে। এমনকি খুব বেশি ব্যায়াম না করলেও—যেমন মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা বা হালকা নড়াচড়া করা—তাতেও কিছুটা ঝুঁকি কমে। অর্থাৎ শারীরিক কার্যকলাপ যত বাড়ে, হৃদরোগের ঝুঁকি তত কমতে থাকে।
হাঁটার উপকারিতা
ইউরোপিয়ান জার্নাল অব প্রিভেনটিভ কার্ডিওলজিতে প্রকাশিত গবেষণা বলছে, প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটলেও হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। হাঁটা শরীরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ উপাদানের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি সিস্টোলিক রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে, রক্তে গ্লুকোজ ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়াতে সহায়তা করে।
হাঁটার গতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ
সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, শুধু হাঁটাই নয়—হাঁটার গতিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের একটি মেটা-বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যারা দ্রুত হাঁটেন তাদের মধ্যে করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি ধীরগতিতে হাঁটা ব্যক্তিদের তুলনায় কম।
স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর পরামর্শ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপ করা উচিত। বেশিরভাগ দিন ৩০ মিনিট হাঁটলে সহজেই এই লক্ষ্য পূরণ করা যায়।
অন্যদিকে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনও জানিয়েছে, হাঁটা একটি সহজ কিন্তু কার্যকর ব্যায়াম। এটি রক্তচাপ কমায়, রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
যারা একটানা ৩০ মিনিট হাঁটতে পারেন না, তারা দিনে কয়েকবার ছোট ছোট সময়ে হাঁটতে পারেন। যেমন তিনবার ১০ মিনিট করে দ্রুত হাঁটলেও প্রায় একই উপকার পাওয়া যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিততা। প্রতিদিন দ্রুত হাঁটার অভ্যাস হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার সহজ এবং দীর্ঘমেয়াদি উপায়গুলোর একটি।
কারা সতর্ক থাকবেন
সাধারণভাবে হাঁটা নিরাপদ। তবে যাদের বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা দীর্ঘদিনের কোনো গুরুতর অসুস্থতা রয়েছে, তাদের নতুন করে হাঁটার অভ্যাস শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আজ থেকেই সচেতন হলে ভবিষ্যতে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


