বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে মায়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৪ জেলেকে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এদের মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি ও একজন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত ব্যক্তি রয়েছেন।
শনিবার (৯মে) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, নাফনদীর বিভিন্ন অংশে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে যাওয়া বেশকিছু বাংলাদেশি জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মায়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করলে তাদেরকে মায়ানমার আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে, আটক জেলেদের মায়ানমারের অভ্যন্তরে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয় এবং বিভিন্ন মেয়াদে তারা সেখানে আটক অবস্থায় থাকে।
বিজিবির উদ্যোগের আরাকান আর্মির সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের ধাপে ধাপে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়।
এরই প্রেক্ষিতে, শনিবার বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল নাফ নদীর শূন্য লাইনে আরাকান আর্মির কাছ থেকে ১৪ জন জেলেকে গ্রহণ করে টেকনাফ জেটিঘাটে ফেরত নিয়ে আসে। পরে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবি সর্বদা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। মানবিক সংকট মোকাবিলায় বিজিবির পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় একটি ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও অতিরিক্ত তাপের প্রভাবে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে প্রায় ২৫ বিঘা জমির বোরো ধান। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন বনজ ও ফলদ গাছ। এতে শতাধিক কৃষক চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে এখন দিশেহারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ ধানের শীষ শুকিয়ে তামাটে বর্ণ ধারণ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোকছেদ আলী আক্ষেপ করে বলেন, এক একর জমিতে ধারদেনা করে ধান আবাদ করেছিলাম। কিন্তু ইটভাটার আগুনের মতো বাতাসে সব ধান শুকিয়ে চিটা হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকার দশা হয়েছে।
আরেক কৃষক মকবুল হোসেন ভোলা বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে বোরো চাষ করেছি। কিন্তু ভাটার ধোঁয়ায় সব শেষ। এই ক্ষতি আমরা কীভাবে পুষিয়ে নেব জানি না। একই অবস্থা আব্দুল আজিজ, আব্দুস সাত্তার ও আজীরন বেওয়াসহ আরও অনেকের।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, চকপাড়া ও আশপাশের ফসলি জমির ঠিক পাশেই গড়ে উঠেছে সানহা ইটভাটা। সম্প্রতি এই ভাটা থেকে নির্গত তীব্র গরম বাতাস ও বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় বোরো ধানের মশীষ পুড়ে সাদা হয়ে গেছে। ধান পরিপক্ব হওয়ার আগেই জমিতে শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে প্রান্তিক চাষিদের। ফসলের পাশাপাশি এলাকার ইউক্যালিপটাস গাছ, বাঁশঝাড় এবং বিভিন্ন ফলদ বৃক্ষও এই তাপে ঝলসে গেছে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ইটভাটার তাপ ও ধোঁয়ার প্রভাবে ফসলের ক্ষতির বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সাপেক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দেব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এদিকে স্থানীয় কৃষিবিদ আব্দুল মজিদ মনে করেন, লোকালয় ও কৃষিজমির পাশে অপরিকল্পিত ও অবৈধ ইটভাটা স্থাপনই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। পরিবেশ ও কৃষি রক্ষায় এসব ভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে তিনি দাবি জানান।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এখন একটাই দাবি— অবিলম্বে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক নিরূপণ করে তাদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত এসব ইটভাটা বন্ধ করে কৃষিজমি রক্ষা করতে হবে।
দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে ওই এলাকায় কৃষি উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


