ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম হামলার দৃশ্য দেখে আর ঘরে বসে থাকতে পারিনি। অধিকার আদায়ে আন্দোলনে গিয়েছিলাম।

আন্দোলনে চলাকালীন হঠাৎ বুকে গুলি লাগে। এতে আমার মুহূর্তের মধ্যেই পুরো শরীর রক্তে ভিজে যায় এবং অচেতন হয়ে যায়। মনে হয়েছিল শহীদ হয়ে যাব, তবে এখনো ২২টি সিসা নিয়ে বেঁচে আছি। এভাবেই স্মৃতিচারণ করে কথাগুলো বলছিলেন আহত জুলাইযোদ্ধা মুশফিকুর রহমান আশিক।
আশিক পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সাতকাছিমিয়া গ্রামের বাসিন্দা। জুলাইযোদ্ধাদের সংগঠনের স্থায়ী কমিটির সদস্য।
জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আশিক বলেন, তখন আমি এইচএসসি পরীক্ষার্থী। ১ জুলাই থেকেই আন্দোলনের খবর জানতে পারছিলাম।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ভিডিও দেখে নিজেকে আর আটকে রাখতে পারিনি। তাদের রক্তাক্ত মুখ দেখে মনে হয়েছে, ঘরে বসে থাকলে নিজের বিবেকের কাছে অপরাধী হয়ে থাকব।
তিনি জানান, ১৬ জুলাই আন্দোলনে সরাসরি যোগ দেন। এরপর রাজধানীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। ৪ আগস্ট রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব ও পিলখানার মধ্যবর্তী এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় ছাত্রলীগের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।
সেদিনের বিভীষিকাময় মুহূর্ত স্মরণ করে আশিক বলেন, হঠাৎ বুকে গুলি লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো শরীর রক্তে ভিজে যায়। আমি ধীরে ধীরে অচেতন হয়ে পড়েছিলাম। তখন মনে হয়েছিল, আর হয়তো বাঁচব না শহীদ হয়ে যাব। চিকিৎসার পর তার শরীর থেকে একটি গুলি বের করা সম্ভব হলেও এখনো ২২টি সিসা কার্তুজ শরীরের ভেতরে রয়ে গেছে। এসব সিসার কারণে তিনি নিয়মিত শারীরিক যন্ত্রণা অনুভব করেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন এগুলো শরীরে থাকলে ভবিষ্যতে জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি, এমনকি ক্যান্সারের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।
আশিক বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তিগত লাভের জন্য আন্দোলনে করিনি। একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই রাজপথে নেমেছিলাম। সেই স্বপ্ন এখনো বুকে লালন করি।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তিনি আরো বলেন, আজও অনেক জুলাইযোদ্ধা গুলির ক্ষত, শারীরিক অক্ষমতা ও মানসিক ট্রমা নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাই, আহত জুলাই যোদ্ধাদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হোক এবং তাদের জন্য টেকসই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। পিরোজপুরের প্রত্যন্ত জনপদ থেকে উঠে আসা এই তরুণের শরীরে এখনো আন্দোলনের রক্তাক্ত স্মৃতি বহন করছে ২২টি সিসা কার্তুজ। কিন্তু তার কণ্ঠে হতাশার চেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় একটি স্বপ্ন একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষকে আর জীবন দিয়ে মূল্য দিতে হবে না।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



