ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছে। গত রোববার (২৪ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ইরাকের কুর্দিস্তান শহরে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তারা নিহত হয়।

নিহতরা হলেন, মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারী এলাকার খলিল মন্ডলের ছেলে মনোহার আলী (৩৫) ও চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি এলাকার মরহুম আলাউদ্দিন মাস্টারের ছেলে বজলু (৪০)। মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
নিহত মনোহার আলী ও বজলু ইরাকের কুর্দিস্তান শহরে একটি কনফেকশনারি দোকানে কাজ করতেন।
নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মনোহার আলী প্রায় চার বছর আগে জীবিকার তাগিদে ইরাকে যান। তার ওই দেশে থাকার জন্য বৈধ পারমিট বা আকামা না থাকায় বিভিন্ন সাপ্লাইয়ের কাজ তিনি পরিবারের কাছে অল্প কিছু টাকা পাঠাতো। সে কারণে বিদেশ যাওয়ার সময় নেওয়া ঋণ চার বছরেও শোধ করতে পারেননি তিনি। এর মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুর খবর পৌঁছালে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। যে দিন মনোহর আলী নিহত হয় একইদিন সকালে ঘূর্ণিঝড়ে তাদের বসতঘরের চাল উড়ে যায়।
অপরদিকে, একই দুর্ঘটনায় নিহত বজলুও প্রায় দেড় বছর আগে ইরাকে যান। ঋণ করে বিদেশে গেলেও পরিবারের আর্থিক অবস্থার তেমন উন্নতি করতে পারেননি তিনি। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি।
নিহত মনোহার আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার বলেন, শনিবার বিকালেও আমার স্বামী ফোন করে আমাদের সব খবর নিলেন। তারপর খবর এলো তিনি ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। একদিকে ঝড়ে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু উঠে গেছে। সরকারের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, দয়া করে আমার স্বামীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
বজলুর স্ত্রী আখি আক্তার বলেন, শনিবার রাতে শেষবারের মতো তার সঙ্গে কথা হয়। ছেলে-মেয়েদের খোঁজ নিয়েছেন, দেশে ফেরার কথাও বলেছেন। হঠাৎ ওই দেশ থেকে ওর সাথে যারা ছিল তারা ফোন দিয়ে বলে সে মারা গেছে। আমি সরকারের কাছে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং আমরা নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। তাদের যেকোনো সাহায্যে পুলিশ প্রস্তুত।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



