Advertisement

জুমবাংলা ডেস্ক: খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় একটি পাহাড়ি আঞ্চলিক দলের সন্ত্রাসীদের চক্ষুশূল ছিলেন বাবুছড়া ভূমি রক্ষা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় বাঙালি নেতা আবদুল মালেক (৫০)। এর জের ধরে গত শুক্রবার রাতে উপজেলার বাবুছড়া বাজারসংলগ্ন বাঙালি শিবিরে সন্ত্রাসীরা মালেককে হত্যার উদ্দেশ্যে ব্রাশফায়ার করলে দুর্ভাগ্যবশত গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান তাঁর স্ত্রী মোর্শেদা বেগম (৪৫)। মালেক অক্ষত থাকলেও এই ঘটনায় আহত হয়েছেন তাঁর শিশুপুত্র মো. আহাদ (১১)।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা স্থানীয় আবুল লিডারের বাড়িতেও শতাধিক রাউণ্ড গুলি ছোড়ে। এ ঘটনার জন্য মালেক ইউপিডিএফ প্রসিত পক্ষকেই দায়ী করেছেন। তবে এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ইউপিডিএফ প্রসিত পক্ষের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ইউপিডিএফ (গণতন্ত্র) নেতাকর্মীদের মালেক আশ্রয় দেন বলে অভিযোগ করে আসছিল ইউপিডিএফ প্রসিত পক্ষ। ওই পক্ষটি এর আগে মালেককে হত্যার হুমকিও দিয়েছিল। এ ছাড়া  সোনামিয়া টিলা এলাকা থেকে উচ্ছেদ হওয়া বাঙালিদের নিজ নিজ ভূমি ফেরত পাওয়ার জন্য মালেক দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

শুক্রবার রাত ১টার দিকে সন্ত্রাসীরা বাঙালি শিবিরে ঢুকে মালেকের বাঁশের তৈরি বসতঘরের খুব কাছ থেকে ব্রাশফায়ার করে। এরপর সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার সময় মালেকের বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে আবুল লিডারের বাড়ি লক্ষ্য করে আরো শতাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সকালে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে পড়ে আছে মোর্শেদার লাশ এবং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন তাঁর ছেলে। সেখানে উপস্থিত নিকটাত্মীয় মো. আনোয়ার বলেন, ‘রাতে শতাধিক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছি। ঘটনার পর হতাহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসি। নিরাপত্তার কারণে মালেক হাসপাতালে আসতে পারেননি।’ পরে বাবুছড়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মালেকের বসতঘরের খাটের পাশে মেঝেতে অনেক রক্ত জমে আছে।

মালেক জানান, ঘটনার সময় তিনি দ্রুত খাট থেকে মাটিতে গড়িয়ে পড়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও গুলিবিদ্ধ হন তাঁর স্ত্রী। শিশু আহাদের মাথার একপাশ ঘেঁষে গুলি লাগাতে সেও আহত হয়। সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা দুজনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক মোর্শেদাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে আবুল লিডারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বসতঘরের টিনের বেড়ায় অসংখ্য গুলির চিহ্ন; ছিদ্র হয়েছে ঘরে থাকা হাঁড়ি-পাতিল। বাড়ির শিশুরা সকালে প্রায় ৭০টি গুলির খোসা কুড়িয়ে পেয়েছে। ঘরে থাকা আবুল লিডারের ছেলে রাজু আহাম্মেদ জানান, প্রথমে তাঁরা গুলির শব্দ শুনতে পান। এর কিছুক্ষণ পর সন্ত্রাসীরা তাঁদের বাড়ির পাশের সড়ক দিয়ে দক্ষিণ দিকে চলে যায়। এ সময় গরমের কারণে তাঁদের ঘরের জানালা খোলা ছিল। সন্ত্রাসীদের দেখা হচ্ছে, এমনটা ভেবেই তাঁদের বাড়ি লক্ষ্য করে রাস্তা থেকেই শতাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। কিন্তু শিবিরে প্রথম গুলির শব্দ শোনার পরই আত্মরক্ষার্থে তাঁরা সবাই খাট থেকে নেমে মেঝেতে শুয়ে থাকেন। এ কারণেই কেউ হতাহত হননি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা সুগত চাকমা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মোর্শেদার মৃত্যু হয়। তাঁর কোমরের একটু ওপরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। দীঘিনালা থানার ওসি উত্তম চন্দ্র দেব জানান, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রতিবাদে বিক্ষোভ : এ ঘটনার প্রতিবাদে দীঘিনালার সর্বস্তরের জনতার ব্যানারে গতকাল শনিবার বিকালে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে। সমাবেশ থেকে বিক্ষুব্ধ বাঙালিরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Md. Mahamudul Hasan, widely known as Hasan Major, is a career journalist with over two decades of professional experience across print, broadcast and digital media. He is the founding Editor of Zoombangla.com. He has previously worked for national English daily New Age, The Independent, The Bangladesh Observer, leading Bangla daily Prothom Alo and state-owned Bangladesh Betar. Hasan Major holds both graduate and postgraduate degrees in Communication and Journalism from the University of Chittagong.