Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রবিবার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে হওয়া মিছিল নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও অ্যাক্টিভিস্টরা সারারাত বিক্ষোভ করেছে। খবর বিবিসি বাংলার।

দিল্লির একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশ প্রবেশ করে শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মারধর করার প্রতিবাদে মূলত এই বিক্ষোভ হচ্ছে ।

দিল্লির শিক্ষার্থীদের সমর্থনে ভারতের আরো কয়েকটি জায়গায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভের সময় রবিবার ভারতের রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে বিক্ষোভকারীদের।

পার্শ্ববর্তী তিনটি মুসলিম প্রধান দেশের অমুসলিম অভিবাসীরা ধর্মীয় সহিংসতার শিকার হলে তাদের ভারতের নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়টি রয়েছে নতুন এই আইনে।

বিক্ষোভকারীরা রাস্তা বন্ধ করে এবং বাস পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে।

আইনটি পাস হওয়ার পর থেকে উত্তর ও পূর্ব ভারতের অনেক এলাকায় বিক্ষোভ করছে মানুষ। গত পাঁচ দিনের অস্থিরতায় সেসব জায়গায় মারা গেছে ছয় জন।

নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের জের ধরে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের গৌহাটিসহ ১০টি সংবেদনশীল এলাকায় কারফিউ জারি রয়েছে।

আসামে মানুষ যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারে সেজন্য কারফিউ শিথিল করা হয় শনিবার। সেখানে সোমবার পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

গত দুই দিনে বিক্ষোভকারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে আসামে এ পর্যন্ত ২৭ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জন গৌহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা তাদের নাগরিকদের উত্তর-পূর্ব ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করেছে।

দিল্লিতে কী হয়েছে?

স্বনামধন্য জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয় তাদের।

সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে হলো তা এখনো পরিষ্কারভাবে জানা যায়নি। বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে পুলিশের দিকে পাথর ছুঁড়ে মারা হলে তারা টিয়ার গ্যাস মেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

অন্তত তিনটি বাস ও বেশকিছু মোটর সাইকেল জালিয়ে দেয়া হয়েছে। সংঘর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা পুলিশের কাছ থেকে দূরে সরে যান।

বিবিসি’র কিঞ্জাল পান্ডিয়ার কাছে স্থানীয় পুলিশের কয়েকজন জানিয়েছেন যে সেসব এলাকার কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী সহিংসতার সূত্রপাত ঘটায়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মারধর করে।

পুলিশের দাবি, বিক্ষোভ থামাতে যা করা প্রয়োজন ছিল তারা তাই করেছে। দক্ষিণ দিল্লির ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের স্কুলগুলো সোমবার বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কেন বিতর্কিত এই আইন?

বিতর্কিত নতুন আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে যেসব অমুসলিম অভিবাসী অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে, তারা সেখানকার নাগরিক হওয়ার সুযোগ পাবে।

হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকারের যুক্তি, সেসব মুসলিম প্রধান দেশে যারা ধর্মীয় সহিংসতার শিকার হচ্ছে তাদের জায়গা দেয়ার উদ্দেশ্যে এই আইন।

সমালোচকরা মনে করেন, মুসলিমদের কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যেই এই আইন। এছাড়া ভারতের সংবিধানে উদ্ধৃত ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকেও খর্ব করে এই আইন।

এ সপ্তাহের শুরুতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা নতুন আইনের বিষয়ে তাদের উদ্বেগ তুলে ধরে এবং আইনটিকে বৈষম্যমূলক বলে সমালোচনা করে।

অসমীয়া সংগঠনগুলো বলছে, এই আইন বাস্তবায়নের ফলে বহিরাগতরা তাদের জমি ও চাকরির দখল নিয়ে নেবে এবং তাদের সংস্কৃতিকেও প্রভাবিত করবে।

পাশাপাশি নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে কথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের আসামের নাগরিকত্ব পাওয়ার বিরোধিতা করছেন তারা।

পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বাংলাভাষী মুসলমানরা যে প্রতিবাদ করছে সেখানেও ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেয়ার বিরোধিতা রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে একটা আতঙ্ক রয়েছে যে, তাদের একটা অংশকে এই আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রহীন করে দেয়া হতে পারে।

তারা বলছেন যে, এনআরসির মাধ্যমে যে ১৯ লাখ নাম বাদ দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে অমুসলিমরা হয়তো এই আইনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাবেন তবে মুসলমানরা কিন্তু বাদই রয়ে যাবেন। তাদেরই হয়তো রাষ্ট্রহীন করে দেয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।

ভারতের কর্তৃপক্ষ অবশ্য কোনো ধরণের ধর্মীয় পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে মুসলিমরা এই আইনের আওতায় পড়বে না কারণ তারা কোনো দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নয় বিধায় তাদের ভারতের সুরক্ষার প্রয়োজন নেই।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Md. Mahamudul Hasan, widely known as Hasan Major, is a career journalist with over two decades of professional experience across print, broadcast and digital media. He is the founding Editor of Zoombangla.com. He has previously worked for national English daily New Age, The Independent, The Bangladesh Observer, leading Bangla daily Prothom Alo and state-owned Bangladesh Betar. Hasan Major holds both graduate and postgraduate degrees in Communication and Journalism from the University of Chittagong.