
হাসপাতাল ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন অজ্ঞাত ওই নারী উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়ন বাজারে ঘোরাফেরা করছিলেন। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত নয়টার দিকে বাজারের সেতু সংলগ্ন সড়কের ওপর তার প্রসাব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন। এমন অবস্থায় তিনি সড়কের ওপর একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। বিষয়টি স্থানীয় তরুণ খোকন হালদার বিষযটি নারী সাংবাদিক ইসরাত জাহান মমতাজকে অবহিত করেন। পরে নারী সাংবাদিক এলাকার বিভিন্ন জনের সাথে যোগাযোগ করলে পাশের স্থানীয় বৃদ্ধা লাইলী বেগম প্রসূতি মা ও সদ্যজান শিশুটিকে তার বাসায় আশ্রয় দেন। এ সময় বাজারের পাহারাদার আবদুস সালাম স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা তুলে খাবার ও পোষাক কিনে দেন।
বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊর্মী ভৌমিককে অবহিত করলে তিনি থানা ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রসূতি মা ও শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে নারী উদ্যোক্তা সাংবাদিক ইসরাত জাহান মমতাজ জানান, নার্স ও ডাক্তাররা মা ও সদ্যজাত শিশুর স্বাস্থ্য সেবা, ঔষধ পত্রসহ চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊর্মী ভৌমিক শিশুটির খোঁজ খবর নেন এবং শিশুর দুধ, খাদ্য, কাপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করে দেন।
তিনি আরও জানান, শিশুটির পথে জন্ম হওয়ায় তার নাম রাখা হয়েছে পথিক। অনেকেই শিশুটিকে দত্তক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রশাসন নাম পরিচয়হীন শিশুটিকে সেফ হোমে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন।
মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফেরদৗস প্রিন্স বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রসূতি মা মানসিক ভারসাম্যহীন। হাসপাতালে ভর্তির প্রসূতি মা ও সদ্যজাত শিশুর যথাযথ চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে প্রসূতি মা ও শিশটি সুস্থ রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊর্মী ভৌমিক বলেন, অজ্ঞাত অসহা মা ও শিশুটির দায়িত্ব এই মুহুর্তে রাষ্ট্রের। তাদের পরিচয় উদঘাটন করা যায়নি। সমাজসেবা দপ্তরের মাধ্যমে তাদের বরিশাল এর আগৈলঝাড়া সেফ হোমে পাঠানো হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



