রাজধানীর পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটে একা বসবাসকারী সেলিনা আফরোজের (৫৫) মরদেহের নাক-মুখে রক্ত ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কয়েকদিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
পল্লবীতে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করা বৃদ্ধা নূরজাহান বেগমের (৭৫) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই একই এলাকায় আরও এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মৃত সেলিনা আফরোজ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একা বসবাস করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্বজনরা।
বুধবার (৩ জুন) ভোরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের ১০ নম্বর সড়কের একটি বাসার তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পর ডাইনিং রুমের মেঝেতে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পল্লবী থানার পরিদর্শক এমদাদ জানান, মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মরদেহের অবস্থা দেখে মনে হয়েছে, কয়েকদিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। বাড়ির সামনে সংবাদকর্মী, প্রতিবেশী ও উৎসুক মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
পুলিশের তথ্যমতে, সর্বশেষ গত ২৬ মে রাতে সেলিনা আফরোজের সঙ্গে তার ভাতিজা আশফাকুর রহমানের মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। এরপর আর কারও সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ২৬ মে থেকে ৩ জুনের মধ্যে কোনো একসময় তিনি মারা যান।
জানা যায়, সেলিনা আফরোজের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। স্বামী মমিনুল হক ও সন্তানরা কানাডায় বসবাস করেন। একসময় তিনিও পরিবারের সঙ্গে কানাডায় ছিলেন। তবে পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর আগে দেশে ফিরে পল্লবীতে বাবার দেওয়া ফ্ল্যাটে একা বসবাস শুরু করেন।
তার আত্মীয় মো. রমিজুল হায়দার জানান, সেলিনা তার বাবার বাড়ির একটি ফ্ল্যাটের তৃতীয় তলায় একা থাকতেন। তিনি সাধারণত কারও সঙ্গে কথা বলতেন না। কারও ফোনকলও সচরাচর ধরতেন না; ইচ্ছা হলে তবেই ফোন ধরতেন। প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হতেন না। যখনই তাকে বাইরে যেতে দেখা গেছে, তার হাতে বাজারের ব্যাগ দেখা যেত। তিনি নিজের ইচ্ছামতো চলাফেরা করতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি একাকী জীবন কাটাচ্ছিলেন। স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না। প্রতিবেশীদের সঙ্গেও খুব একটা মেলামেশা করতেন না।
সেলিনা আফরোজের মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাতিজা আশফাকুর রহমান পল্লবী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। মামলার আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, কয়েকদিন যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ফ্ল্যাটের দুটি দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে ডাইনিং রুমের মেঝেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক আলী বলেন, সেলিনা আফরোজ একাই বাস করতেন। তার কোনো গৃহকর্মী ছিল না। নিজেই বাজার করতেন এবং রান্নাবান্না করতেন। ফ্ল্যাটটিও বেশ অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল।
তিনি বলেন, মরদেহের নাক-মুখে রক্ত এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বাথরুমে পানির কল খোলা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গোসলের সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে গিয়ে তিনি মারা যেতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
উল্লেখ্য, গত ৩১ মে পল্লবীর ৬ নম্বর সেকশনের ৮ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মেয়ের বাসার একটি কক্ষে নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছিলেন। তার মৃত্যুর পর সন্তানদের দায়িত্বহীনতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
সূত্র ও ছবি : বাংলানিউজ২৪
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



