Advertisement

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জে পুলিশ পরিচয়ে পাঁচ স্বর্ণের দোকানসহ সাত দোকানে ডাকাতির হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির মাত্র ২শ গজ দূরত্বে বাজার এলাকায় দুর্ধর্ষ এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

এতে স্বর্ণের ওই পাঁচ দোকানির আনুমানিক ৫৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৩৪০ ভরি রূপা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল। এছাড়াও সাত দোকান ও এক মুরগীর পিকআপ ভ্যান থেকে নগদ দুই লাখ ৪৫ হাজার টাকা লুটে নিয়েছে ডাকাতরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ ঘটনার সময় ফাঁড়ির ইনচার্জ রূপন চন্দ্র সরকার ফাঁড়িতে ছিলেন না। তিনি ফাঁড়িতে থাকলে হয়তো ডাকাতির এমন ঘটনা নাও ঘটতে পারতো। ফাঁড়ির ইনচার্জ ফাঁড়িতে না থাকায় ডাকাত দল এমন সুযোগ নিয়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের।

স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট করা দোকানগুলো হচ্ছে- উলুখোলা বাজারের সজল মালিকাধীন সোনালী জুয়েলার্স, নারায়ণ চন্দ্র রায় মালিকাধীন রাজীব জুয়েলার্স, চঞ্চল চন্দ্র দাস মালিকাধীন শিল্পী জুয়েলার্স, সুকান্ত চন্দ্র দাস মালিকাধীন সন্দীপ জুয়েলার্স, দীপঙ্কর চন্দ্র দাস মালিকানাধীন রূপশ্রী জুয়েলার্স, ইউসুফের চায়ের দোকান, আক্তারের মুরগীর দোকান এবং এক মুরগীর পিকআপ ভ্যানের ড্রাইভার ও হেলপার।

বাজারে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা প্রহরীদের বরাত দিয়ে নাগরী ইউপি সদস্য বাবলু গাব্রিয়েল রোজারিও জানান, রাত ১২-৩টার মধ্যে পুলিশের পোশাক পরিহিত ৩০/৪০ জনের এক ডাকাত দল বাজারে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে বাজারে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সাত নিরাপত্তা প্রহরীকে বাজারের এক দোকানে আটকে রাখে। পরে বাজারের প্রতি প্রবেশ রাস্তায় নিজেদের লোক দিয়ে পাহারা বসায়। এরপর একে একে পাঁচ জুয়েলার্সের দোকান, চা ও মুরগীর দোকানে ডাকাতি করে পালিয়ে যায়।

নারায়ণ চন্দ্র রায় মালিকাধীন রাজীব জুয়েলার্সের কর্মচারী জানান, রাত আনুমানিক ২টার দিকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে দোকানের সাটার খুলতে বলে। বাজারের প্রায় ২০০ গজ দূরত্বে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি। তাই স্থানীয় পুলিশ ভেবে দোকানের সাটার খুলে দেওয়া হয়। এ সময় সাটার খুলে দেখি ১২/১৩ জন লোক দাঁড়ানো। এদের মধ্যে ৬/৭ জনের গায়ে পুলিশের পোষাক ছিল। তাদের হাতে ওয়ার্লেস ও অস্ত্র ছিল। বাকীদের গায়ে কালো পোষাক ও মুখোশ পড়া ছিল। পরে ডাকাতরা তাকে বেঁধে সাত নিরাপত্তা প্রহরীর সাথে আটকে রাখে। সপ্তাহের প্রতি সোমবার উলুখোলা বাজারে আধা বেলা জুয়েলারীর দোকান খোলা থাকে। তাই তারাও সেদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখেন।

সন্দীপ জুয়েলার্সের মালিক সুকান্ত জানান, বাজারের এত কাছে পুলিশ ফাঁড়ি। কিন্তু ডাকাতির এমন ঘটনা আমাদের বিস্মিত করেছে। আমরা একেবারে সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম। রাস্তায় বসা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নাই।

উলুখোলা ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রূপন চন্দ্র সরকার  জানান, তিনি ওই সময় টহলে নাগরী বাজারে ছিলেন।

এ ব্যাপারে পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনা তদন্তে কাজ শুরু করেছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মিজানুল হক।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম ও পংকজ দত্ত, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মিজানুল হক, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সোহেল রানা, ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মুজাহিদুল ইসলাম।

ডাকাতি ও লুটপাটের বিষয়টি ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এটি সংঘবদ্ধ এবং দক্ষ ডাকাত দলের কাজ। তবে দ্রুতই ঘটনার সাথে জড়িত দলটিকে আটক করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google