নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত সভা করতে যাচ্ছে পে কমিশন। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পুরোনো ভবনের সম্মেলন কক্ষে পূর্ণ কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভা শেষে বিকেলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ উপলক্ষে বিকেল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ প্রতিবেদন জমা দেবেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকবেন। গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থ উপদেষ্টা।
পে কমিশনের এক সদস্য গণমাধ্যমকে বলেন, নবম পে-স্কেলের সব বিষয় মোটামুটি চূড়ান্ত। সভায় বিষয়গুলো আরেকবার রিভাইজ করা হবে। কমিশনের বৈঠকে খসড়া সুপারিশ পর্যালোচনা শেষে তা প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে।
সুপারিশ প্রকাশ করা হবে কি না— এ প্রশ্নের জবাবে ওই সদস্য বলেন, কমিশনের সুপারিশের কোনো কপি সদস্যদের কাছে থাকবে না। এটি শুধু প্রধান উপদেষ্টার কাছেই থাকবে। পরবর্তীকালে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সময় প্রয়োজনে আরও কয়েকটি কপি প্রিন্ট করা হতে পারে।
সূত্র জানায়, বেতন কমিশন ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন বেতন কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান। সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা নতুন স্কেলে দ্বিগুণের বেশি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অন্য দিকে সর্বোচ্চ ধাপে বর্তমানে নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা, যা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত নির্ধারণ করা হচ্ছে ১:৮।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পে-স্কেলের জন্য পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো আংশিকভাবে কার্যকর করার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, পুরো মাত্রায় নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় নিচের ধাপে বেতন ও ভাতা তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কমিশনের সব সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন করা নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত প্রস্তাবে সরকারি চাকরিজীবীরা সন্তুষ্ট হবেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়।
২১ সদস্যের এ কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


