বসন্তের স্নিগ্ধ সকালটা আজ যেন একটু অন্যরকম বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। ঘুম ভাঙার পর থেকেই জানালার বাইরে রোদের ঝিলিকের বদলে চোখে পড়ছে ধূসর মেঘের আনাগোনা। ফাগুনের এই সময়ে এমন গুমোট ভাব সচরাচর দেখা না গেলেও প্রকৃতির খেয়ালে আজ ঢাকার আকাশ জুড়ে বৃষ্টির এক চাপা সংকেত ভাসছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আজ শনিবার সকালে জানানো হয়েছে যে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি নামতে পারে। সকাল সাতটা থেকে কার্যকর হওয়া এই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে পুরোপুরি মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
শহরের রাজপথে বের হওয়া মানুষগুলো সকাল থেকেই টের পাচ্ছেন বাতাসের ভিন্ন মেজাজ। পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বয়ে আসা বাতাস শরীরে এক ধরনের শীতল পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে। মেঘের এই ঘনঘটার কারণে রোদের তেজ নেই বললেই চলে, যার ফলে দিনের তাপমাত্রাও কিছুটা কমে আসতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আজ ভোর আটটায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা বর্তমানে ৮৭ শতাংশের ঘরে থাকায় কিছুটা ভ্যাপসা গরম থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা সেই অস্বস্তি কমিয়ে আনবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লঘুচাপের প্রভাবের কারণেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে ঢাকার আবহাওয়ায় এই আকস্মিক পরিবর্তন। এই বৃষ্টি হয়তো খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে না, কিন্তু বজ্রপাতের তীব্রতা থাকতে পারে। তাই বাইরে থাকা অবস্থায় মেঘের ডাক শোনা গেলে বা আকাশ কালো হয়ে এলে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সকালের এই শান্ত ও শীতল আবহাওয়া নাগরিক জীবনে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এলেও বৃষ্টির পর চিত্রটা আবার পাল্টে যেতে পারে। আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৃষ্টি থেমে গিয়ে আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেলেই রোদের প্রখরতা বাড়তে শুরু করবে। ফলে বিকালের দিকে গুমোট গরম আবারও ফিরে আসার একটি আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ দেশের বাজারে আজ স্বর্ণের ভরি কত?
প্রকৃতির এই রূপবদল আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে বসন্ত মানেই শুধু ফুল আর কোকিল নয়, মাঝেমধ্যে হঠাৎ বৃষ্টির ঝাপটাও এর চিরচেনা সঙ্গী। আপাতত নগরবাসী অপেক্ষা করছেন সেই বহু কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির জন্য, যা ধুলোমলিন শহরটাকে খানিকটা ধুয়ে মুছে সতেজ করে দেবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


