সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বাড়ায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জেলার চৌহালী, সিরাজগঞ্জ সদর, কাজীপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার তীরে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বলছেন, যেসব স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেসব জায়গায় ভাঙনরোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

গত এক সপ্তাহে ফসলি জমির পাশাপাশি অন্তত ১০০ ঘরবাড়ি, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মসজিদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদীতে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে আরও হাজারো পরিবার। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সরেজমিন ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
পাউবো সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস আগে থেকে ভারতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেই পানি যমুনা নদীতে আসায় এবার আগাম পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ, টেকপাড়া ও ভূতের মোড়, সদরের কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বর্ণি, কাজীপুর উপজেলার ভেটুয়া ও চরগিরিশ এবং শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর, ধীতপুর, কুরসি, বারোপাখিয়া, গালা ইউনিয়নের মোহনপুর ও বৃ-হাতকোড়া গ্রাম নদীতে বিলীন হওয়ার পথে। এরইমধ্যে এসব গ্রামে শতাধিক বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হাজারও মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নদীভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা ও ক্ষতিপ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, গত এক সপ্তাহে অন্তত ১০০টি ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিম্নমানের কাজ ও প্রয়োজনীয় পরিমাণ জিওব্যাগ না ফেলায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
শাহজাদপুর উপজেলার ধীতপুর গ্রামের রহিতন বেগম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড আগেভাগে ব্যবস্থা নিলে অনেক ক্ষতি এড়ানো যেত। এখনো ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সহায়তা মেলেনি।’
চৌহালীর চর সলিমাবাদ এলাকার কলেজছাত্র মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে অন্তত ৪০-৫০টি ঘরবাড়ি ও একটি পাকা মসজিদ চোখের সামনে বিলীন হয়ে গেছে। এবার বেশি ভাঙছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভাঙবে পানি যখন কমতে শুরু করবে। জানি না তখন কী দেখতে হবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে নদীপাড়ে মানববন্ধনও করেছিলাম। কিন্তু এখনো কোনো দৃশ্যমান কাজ দেখা যাচ্ছে না।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অবশ্যই সহায়তা দেওয়া হবে। ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে।’
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষাকালে নদীর বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙন রোধে বিভিন্ন স্থানে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে।’
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



