জুমবাংলা ডেস্ক : হবিগঞ্জের লাখাইয়ে করোনাভাইরাসে কর্মহীন মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে দেয়া ২ হাজার ৫শ’ টাকা নগদ অর্থ প্রাপ্তদের তালিকা তৈরীতে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৪টি মোবাইল নাম্বারের বিপরীতে নাম রয়েছে ৩০৬ জনের। এছাড়া অধিকাংশ নামই চেয়ারম্যান বা ইউপি সদস্যদের স্বজনদের।

জানা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া দেশের ৫০ হাজার পরিবারকে নগদ ২ হাজার ৫শ’ টাকা করে দেয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। বৃহস্পতিবার এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উদ্যোগের মাধ্যমে হবিগঞ্জ জেলার ৭৫ হাজার পরিবার নগদ অর্থ সহায়তা পাওয়ার কথা রয়েছে। এর জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ত্রাণ কমিটির মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

কিন্তু সেই তালিকা তৈরিতে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তালিকা দিনমজুর ও শ্রমজীবীদের নাম থাকার কথা থাকলেও রয়েছে বিত্তশালি ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের স্বজনদের নাম।

অনুসন্ধানে দেখা যায়- ওয়ার্ডভিত্তিক ত্রাণ কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও ইউনিয়ন সদস্যরা তা না করে নিজেদের মনমতো স্বজন ও নিজস্ব বলয়ের লোকদের মাধ্যমে তালিকা তৈরি করেছেন। টাকা মূলত মোবাইল ব্যাকিং সার্ভিস নগদ, বিকাশ, রকেট ও শিওরক্যাশের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগী পরিবারের কাছে প্রেরণ করার কথা রয়েছে। সেই হিসেবে উপকারভোগী পরিবারের মোবাইল নাম্বার প্রেরণ করার কথা থাকলেও অনেকেই নিজের ও স্বজনদের মোবাইল নাম্বার প্রেরণ করেছেন। অথচ লাখাই উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের অনেক ওয়ার্ডেই একই মোবাইল নাম্বার রয়েছে একাধিক উপকারভোগীর নামের পাশে।

উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৬ হাজার ৭২০টি পরিবার পাচ্ছে নগদ আড়াই হাজার টাকা করে সরকারি অর্থ সহায়তা। এর মধ্যে লাখাই ইউনিয়নে ১ হাজার ১৯৪ জন, মোড়াকরি ১ হাজার ১১৩, মুড়িয়াউক ১ হাজার ১৭৬, বামৈ ১ হাজার ২৪৬, করাব ১ হাজার ৬ ও বুল্লা ইউনিয়নে রয়েছেন ৯৮৫ জন।

তালিকা পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মুড়িয়াউক ইউনিয়নে ৪টি মোবাইল নম্বর ব্যবহার হয়েছে ৩০৬ জনের নামের পাশে। এর মধ্যে ৯৯ জন উপকারভোগীর নামের বিপরীতে রয়েছে ০১৯৪৪-৬০৫১৯৩ মোবাইল নাম্বারটি। এছাড়া ০১৭৪৪-১৪৯২৩৪ মোবাইল নাম্বার রয়েছে ৯৭ জনের নামে, ০১৭৮৬-৩৭৪৩৯১ এ মোবাইল নাম্বার ৬৫ জনের ও ০১৭৬৬-৩৮০২৮৪ মোবাইল নাম্বার রয়েছে ৪৫ জন সুবিধাভোগীর নামের মধ্যে।

এদিকে যদিও নির্দেশনা রয়েছে কোন উপকারভোগীর মোবাইল নাম্বারে ব্যাংকিং সেবা না থাকলে প্রতিবেশী বা ওয়ার্ড সদস্যদের মোবাইল নাম্বার দেয়া যাবে। কিন্তু একটি মোবাইল নাম্বার ৬৫, ৯৭ বা ৯৯ জনের নামের পাশে থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন অনেকেই।

এ ব্যাপারে লাখাই উপজেলার পশ্চিম বুল্লা গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপকারভোগী বৃদ্ধা বলেন, যারা জমি-জমা করেছে তাদের নাম রয়েছে নগদ অর্থ প্রাপ্তদের তালিকায়। কিন্তু আমি গরিব হলেও আমার নাম নাই। যারা তালিকা তৈরি করেছেন তাদের আত্মীয় স্বজনদের নাম দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে মুড়িয়াউক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মলাই বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে তালিকা তৈরির কারণে ভুল হয়েছে। এগুলো সংশোধনের কাজ চলছে।

লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চিতা কর্মকার বলেন, তালিকা তৈরি করার দায়িত্ব ওয়ার্ডভিত্তিক ত্রাণ কমিটির। তালিকা তৈরি করার পরে শিক্ষকের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। শিক্ষকদের যাচাই বাছাই করার পরেও কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে মূল তালিকা থেকে তাকে বাদ দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, তালিকা এখনও খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করা হবে। একই মোবাইল নম্বরে একাধিক ব্যক্তির নাম থাকলে কেউই অর্থ সহায়তা পাবেন না। এছাড়া তালিকা চূড়ান্ত করে পাঠানোর পরও কোনো ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে ত্রুটি পাওয়া গেলে তা পুনরায় যাচাই হবে।

উল্লেখ্য, ইতোমধ্যেই হবিগঞ্জ থেকে ১শ’ জনের তালিকা পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৯ জন মোবাইলের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পেয়েছেন। বাকিরা পর্যাক্রমে পাওয়ার কথা রয়েছে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.