
শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙামোড় ইউনিয়নের আটিয়াবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হাতির পিঠে আসা বরের নাম সম্রাট। তিনি নাগেশ্বরী উপজেলার নেওয়াশি ইউনিয়নের বদ্ধু খানের ছেলে। ভাঙামোড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাবু বাল্যবিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাবু ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার বিকালে বর সম্রাট হাতির পিঠে করে নাগেশ্বরীর নেওয়াশি থেকে ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙামোড় ইউনিয়নের আটিয়াবাড়ী গ্রামে বিয়ে করতে আসেন। এ সময় হাতির পিঠে বরকে দেখে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। পরে স্থানীয়রা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে যে হাতির পিঠে করে বর সম্রাট মূলত বাল্যবিয়ে করতে যাচ্ছেন। বিষয়টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাবুর নজরে এলে তিনি মহল্লাদার (গ্রাম পুলিশ) সফিকুলকে পাঠিয়ে বাল্যবিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে চেয়ারম্যান বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানালে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। কিন্তু পুলিশ আসার খবরে বর ও কনে পক্ষ দ্রুত বিয়েবাড়ি ত্যাগ করেন। তবে তার আগে বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
কনের দুলাভাই হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘ফুলবাড়ীর বড়ভিটা কলেজ মাঠে আয়োজিত স্থানীয় একটি সার্কাসের হাতি ১৫ হাজার টাকায় ভাড়া করে বিয়ে করতে আসে সম্রাট। কনে দশম শ্রেণির ছাত্রী। মেয়ের বয়স কম হওয়ায় পুলিশ আসার খবরে সবাই বাড়ি থেকে সরে পড়ে।’
পুলিশ আসছে জানিয়ে এরপর নিজেও সরে পড়েন কনের দুলাভাই হাফিজুল।
ঘটনাস্থলে পুলিশ কাউকে না পেয়ে ফিরে যায়। এ সময় তারা বিয়ে বাড়িতে ফেলে যাওয়া খাবার ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখেন।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজীব কুমার রায় বলেন, বাল্যবিয়ে হচ্ছে এমন খবরে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। কিন্তু পুলিশ গিয়ে কাউকে পায়নি। জানতে পেরেছি পুলিশ যাওয়ার আগেই বিয়ে সম্পন্ন করে উভয়পক্ষ সটকে পড়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



