বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানীর খিলক্ষেতে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে যুবলীগের এক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ৩০০ ফিট এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
আটক ব্যক্তির নাম হাবিবুর রহমান (৩১)। তিনি খিলক্ষেত থানার বড়ুয়া শিলনপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম মো. সিরাজ দেওয়ান। স্থানীয়ভাবে তিনি ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ৩০০ ফিট এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি ঝটিকা মিছিলে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকেই তাঁকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। সর্বশেষ সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
খিলক্ষেত থানা পুলিশের দাবি, ঝটিকা মিছিলসহ তাঁর বিরুদ্ধে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্য ও অভিযোগ বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তাঁর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব আল হোসাইন বলেন, “খিলক্ষেত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে হাবিবুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ ও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাং সদস্য এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান কঠোর। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে। খিলক্ষেতকে নিরাপদ রাখতে আমাদের অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে।”
পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ড, সাম্প্রতিক চলাফেরা এবং বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে খিলক্ষেত থানার বর্তমান ওসি সোহরাব আল হোসাইন দায়িত্ব গ্রহণের পর এলাকায় অপরাধবিরোধী কার্যক্রম দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানের কারণে অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার হবে।
আরও পড়ুনঃ হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য, মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা
খিলক্ষেত থানা পুলিশও জানিয়েছে, অপরাধ দমনে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রভাবশালী পরিচয়ের প্রতি বিশেষ বিবেচনা করা হবে না। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে এবং জনস্বার্থে চলমান বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



