
নিশান্তদেব একাধিক স্ক্র্যাব টাইফাস আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা করে সারিয়ে তুলেছেন। তিনিও মেনে নিলেন, শহরের মানুষের এই পোকাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়াটা বেশ দুশ্চিন্তার। কারণ, স্ক্র্যাব টাইফাসের জন্য দায়ী ‘ট্রম্বিকুলিড মাইট’ মূলত ধানখেত ও ঝোপঝাড়ের মধ্যে থাকে। ইঁদুর, কুকুর, বিড়াল ও গবাদি পশুর শরীরে সাধারণত বাসা বাঁধে। এদের কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু মানুষের শরীরে দংশন করলেই বিপদ। প্রবল জ্বর আসবে। যেখানে দংশন করছে পোকা, সেখানে ফোসকা পড়ে যাবে। দংশনের ১০ থেকে ১৪ দিনের মাথায় জ্বর দেখা যায়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে মাল্টিপল অর্গ্যান ফেলিওর হয়ে মৃত্যুর মুখে পড়তে পারে রোগী। যদিও এই রোগের সঙ্গে সেভাবে গ্রামবাংলার পরিচয় নেই। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অরিন্দম বিশ্বাস জানান, অনেকেই স্ক্র্যাব টাইফাসে আক্রান্ত হওয়াটাকে টাইফয়েড ভেবে ভুল করছেন। অনেক সময় ভুল চিকিৎসা হচ্ছে। রক্তপরীক্ষায় কিছু ধরাও পড়ছে না। ফলে, সমস্যা হচ্ছে। এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধলেও লিভার ও প্লীহা বড় হয়ে যায়। তখন রক্ত পরীক্ষা করালে নিশ্চিত হওয়া যায়। এই পোকার উপর তেমন গবেষণা হয়নি। পতঙ্গবিদরা সবাই মশা নিয়ে ব্যস্ত। দেখা যাচ্ছে, কুঁচকি, বগল ও কোমরের ভাঁজেই এই পোকা বেশি করে কামড়ায়। শরীরের একেবারে গোপন জায়গায় কামড়ায় বলে অনেক সময়ই দেরিতে ধরা পড়ে। জ্বর এলে তাই দ্রুত গোপনাঙ্গ ও তার আশপাশ পরীক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি জানিয়েছেন, বাড়িতে ইঁদুর থাকলে সাবধান হতে হবে। রাস্তার কুকুর বা বিড়ালের সংস্পর্শেও সাবধানে থাকতে হবে। বাড়িতে বাগান বা ঝোপঝাড় থাকলেও সতর্কতা দরকার।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



