জুমবাংলা ডেস্ক : নাটোর সদর উপজেলার হালসা ইউনিয়নের প্রবাসী আব্দুর রহমানের জ্যেষ্ঠ সন্তান আজিজুর রহমান।  এক সময় পরিকল্পনা ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার। সে মোতাবেক সুযোগও হয়েছিলো। ২০০৭ সালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। পরে অন্যদের মতোই চাকরি, পরিপাটি অফিস কক্ষ, রুটিন মাফিক জীবনে পদচারণার কথা ছিলো। কিন্তু কোথায় যেন একটা পিছুটান কাজ করে তার। সার্ভে ইঞ্জিনিয়ারিং এর জটিল সব টার্ম নিয়ে পড়াশোনা শেষ করা যুবকটির মাথায় সারাক্ষণ ঘুরতে থাকে কিভাবে চাকরি না করে ভিন্ন কিছু করা যায়। থাকা যায় নিজ গ্রামে, প্রকৃতির ছোঁয়ায়।

ইঞ্জিনিয়ারিং পেশা ছেড়ে সফল কৃষি উদ্যোক্তা আজিজুর

শুধু নিজের জন্যই নয় বরং তার মাথায় অনবরত একটি বিষয় খোঁচা দিতে থাকে। কি করলে নিজের পাশাপাশি অন্য বেকার যুবকদেরকেও কাজ দেয়া যায়। স্বাবলম্বী করে তোলা যায়।

এমন মহৎ ভাবনার যুবকটির  জানান, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাবা-মা কখনই কিছু চাপিয়ে দিতেন না। সবসময় তার ইচ্ছাকেই অগ্রাধিকার দিতেন। এ ব্যাপারে তার বাবার ভূমিকাই মুখ্য।

আজিজুর নিজ জেলা থেকে শুরু করে ঘুরেছেন বেশ কয়েকটি জেলা। টান তার কৃষির দিকে। কিভাবে উদ্যোক্তা হওয়া যায়, কিভাবে বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে কৃষির উৎপাদন বাড়ানো যায় সেদিকেই তার আগ্রহ।

আমরা জানতে চাই এই উদ্যমী তরুণের পথচলা নিয়ে। জবাবে হেসে উঠেন আজিজুর। বলেন, শুরুতে অনেকেই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতো। বলতো- পড়াশোনা শেষ করে ভালভাল চাকরি সুযোগ ছেড়ে কেউ কোনদিন এভাবে কৃষি কাজে নামে? আমি তাদের কথায় কিছু মনে না করলেও আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠি। আমাকে সফল হতেই হবে। অন্যদেরকে নিয়ে এগুতে হবে।

ইঞ্জিনিয়ারিং পেশা ছেড়ে সফল কৃষি উদ্যোক্তা আজিজুর

তিনি বলেন, ডিপ্লোমা শেষ করে আর দশজন যুবকের মতো আমিও চাকরি খুঁজি। এক সময় পেয়েও যাই। যোগদান করি। কিন্তু নিজের মধ্যে সবসময় কিছু একটা করার তাড়না অনুভব করতে থাকি। যেখানে আমিসহ আরো অনেকেই আমার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। সে চিন্তা থেকে আজকে আমার কৃষি উদ্যোক্তা হওয়া শুরু। চাকরি ছেড়ে দেই। শুরুতে অনেকের নেতিবাচক কথা শুনলেও আমার বাবা আমাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। ২০১৭’র শেষ দিক। পরীক্ষামূলক দুই বিঘা জমিতে সীডলেস লেবু বাগান করি। এটাই শুরু। বুঝতে পারি এখানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শুরু করি মিশ্রভাবে কমলা, মাল্টা, শরিফা, পেয়ারার চাষ। যদিও আমার অভিজ্ঞতার অভাবে শুরুতে হোঁচট খেতে হয়েছে বেশ। তবে আমি থামিনি। অন্যান্য জেলায় যারা এসবের চাষ করেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। নেই ট্রেনিংও। যা এখনো চলমান। কেমন যেন একটা নেশার মতো। বাগানের একেকটা গাছ নিজের সন্তানের মতো লাগে।

আজিজুর বলেন, এখন আমার বাগানে অস্ট্রেলিয়ান বল সুন্দরী কুল, কাশ্মীরি আপেলকুল, দেশি নারকেলি কুলের চাষ হচ্ছে। দেশি- বিদেশি সবজি চাষ হচ্ছে। স্কোয়াশ, ক্যাপসিকামসহ ডায়াবেটিকস প্রতিরোধী ফল পেপিনো মেলন পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেছি। আস্তে আস্তে আমার প্রোজেক্টের পরিধি দাঁড়িয়েছে ৯ বিঘায়। এখন আমার প্রোজেক্টে দেশি-বিদেশি ফল ও সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে। আমার প্রোজেক্টে ৩ জন পুরুষ ও ৩ জন মহিলা শ্রমিক মাসিক বেতনে কাজ করে। প্রয়োজন অনুসারে প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ জন শ্রমিক দৈনিক মজুরিভিত্তিক কাজ করে। বর্তমানে আমি বাৎসরিক ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা আয় করি।

নারীরা কেন বিবাহিত পুরুষদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Sabina Sami is a Journalist. He is the Sub-Editor of Zoom Bangla News. He is also a good writer.