Advertisement
জুমবাংলা ডেস্ক: দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি সাঁওতাল অধ্যুষিত ধানজুড়ি গ্রাম। এই গ্রামের শতাধিক বসতঘরের অধিকাংশই নকশা ও রংয়ের ঐতিহ্যে মাটির ঘর ও বাড়ি। গ্রামবাংলার কারুকার্যে ভরা বিভিন্ন রংয়ে ঐতিহ্য বহনকারী মাটির ঘরের গ্রাম ‘ধানজুড়ি’।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দিনাজপুর জেলা শহর থেকে ৫৫ কি.মি. দূরে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে বিরামপুর উপজেলায় পলিপ্রায়কপুর ইউনিয়নের মধ্যে আদিবাসী অধ্যুষিত একটি ঐতিহ্যবাহী আদিবাসীদের বসবাসরত ধানজুড়ি গ্রাম। পুরো গ্রামটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, ছিমছাম ও সুন্দর করে সাজানো এবং প্রতিটি বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের আল্পনা দিয়ে অঙ্কিত। এখন প্রায়ই অনেক পর্যটকদের ভীড়ে মুখোরিত হয়ে উঠে এই ধানজুড়ি গ্রামটি।

স্থানীয় আদিবাসী যুবক নরেন কিসকু ও গৃহবধু সুরেলা হাসদার সাথে কথা বলা হলে তারা জানান, সাঁওতালদের সম্ভাবনাময় ধানজুড়ি গ্রামটিকে যদি একটু সুন্দর করে বিভিন্ন ধরনের ফুল ও ফলের গাছ লাগিয়ে সাজিয়ে তোলা যায়, তাহলে এটিও হতে পারে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষনীয় একটি স্থান।

গ্রামটির এলাকায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ধানজুড়ি মিশন ও কুষ্ঠ হাসপাতাল। এ কারণে অনেক রোগী আসেন সেবা নিতে। দেশ ও বিদেশের অনেক মানুষজন দেখতে ভীড় জমান এই স্থানে। এখানে যে কেউ এলে এই মাটির বাড়িগুলো দেখতে কোনদিনও ভুল করেন না।

ধানজুড়ি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা কেরোবিন হেমব্রমসহ অনেকে বলেন, ‘ধানজুড়ি গ্রামের সব বাড়িই মাটি দিয়ে তৈরি। আমাদের জনগোষ্ঠির ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই এ মাটির বাড়ি নির্মাণ করে ওই ঘরে পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছি। এখনও মাটির বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে থাকছি। এছাড়া মাটির ঘরের তলার ওপরে বর্ষাকালে ধান রাখা যায়। এই মাটির বাড়িগুলোতে যেমন আদ্রতা থাকে না তেমনি বাড়ি তৈরিতে খরচও কম হয়।’

গ্রামবাসীদের মধ্যে থমাস মারান্ডি ও বিশু দেবরন আদিবাসী বলেন, ‘আমাদের মা-বোনেরা ছোটকাল থেকেই মাটির বাড়ির কাজ শিখে। প্রতিটি মাটির বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের আল্পনা তৈরি করে আরও সুন্দর করে তোলেন। দেয়াল থেকে শুরু করে, জানালা, দরজা, সবজায়গায় সুন্দর আল্পনা আঁকেন। বছরে দু’বার রঙ ও আল্পনায় সাজানো হয় বাড়ি। এছাড়াও বিভিন্ন উৎসবের আগে বাড়িগুলোকে সাজিয়ে তোলা হয়।’

গৃহবধু বাসন্তি রাণী বলেন, ‘বর্তমান সময়ে আমরা ইটের বাড়ি না করে আদিকালের সেই মাটির বাড়ি তৈরি করেছি। এর কারণ মাটির বাড়িগুলো সহজেই লেপ দিয় সুন্দর করে তোলা যায়, যেভাবেই আমরা সাজাতে চাই সেভাবেই আমরা সাজাতে পারি। সেজন্য আমরা ঐতিহ্য হিসেবে মাটির বাড়ি এখনও ধরে রেখেছি। এছাড়াও ইটের বাড়িগুলোর তুলনায় মাটির বাড়িগুলো তেমন গরম হয় না, গরমেও বাড়ি শীতল থাকে। এ কারণে ইটের বাড়ির চেয়ে মাটির বাড়িতে বেশি আরাম। বিশেষ করে গরমের দিনে এই মাটিরঘর গুলো গরীব ও দুস্থ মানুষরা বাস করে সর্গবাসী হয়।

আমরা আমাদের পুর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া স্মৃতি মাটির বাড়ীতেই বসবাস করে সাচ্ছন্দ বোধ করছি। আমাদের গ্রামেও বিদ্যুৎ আছে। প্রতিটি বাড়ীতেই বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে আধুনিক বিদ্যুতের আলো ও ফ্যানের সংযোগ রয়েছে। গরমের দিনে মাটির ঘরগুলো ইটের বাড়ীর মত তেমন গরম হয় না। ঘরের জানালা খুলে দিলেই ফ্যানের বাতাস ছাড়াই প্রাকৃতিক বাতাসে শরীর জুড়িয়ে যায়। অপরদিকে শীতের দিনে মাটির ঘরগুলোতে খুব বেশি শীত লাগে না। শীতের অল্প বস্ত্রেই শীত থেকে নিজের শরীর উপশম হয়। ফলে মাটির ঘরগুলো স্বাস্থ্য সম্মত বলে তারা নিশ্চিত হয়ে এই ঘরেই বসবাস করতে সাচ্ছন্দ বোধ করেন।-বাসস

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Md. Mahamudul Hasan, widely known as Hasan Major, is a career journalist with over two decades of professional experience across print, broadcast and digital media. He is the founding Editor of Zoombangla.com. He has previously worked for national English daily New Age, The Independent, The Bangladesh Observer, leading Bangla daily Prothom Alo and state-owned Bangladesh Betar. Hasan Major holds both graduate and postgraduate degrees in Communication and Journalism from the University of Chittagong.