বেহাল চুলের রুক্ষতা ও প্রাণহীনতা দূর করতে তেঁতুল অত্যন্ত কার্যকরী। চুলের যত্নে তেঁতুলের ব্যবহার এবং এর জাদুকরী পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা অতুলনীয়। কারণ তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড। এ উপাদানগুলো মাথার ত্বকের মৃত কোষ পরিষ্কার করে, স্ক্যাল্পের পিএইচ লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং চুলের গোড়া মজবুত করে।

শুনতে অবাক লাগলেও রান্নাঘরে থাকা এই সাধারণ উপাদানটি স্ক্যাল্পের যত্ন নিতে এবং চুলপড়া কমাতে সাহায্য করে। আজকাল চুলপড়ার সমস্যায় ভুগছেন না— এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। স্ট্রেস, দূষণ, অনিয়মিত জীবনযাপন, পুষ্টির অভাব, অতিরিক্ত গরম কিংবা হার্ড ওয়াটারের প্রভাবে চুল ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই দামি হেয়ার সিরাম বা ট্রেন্ডি প্রোডাক্টের বদলে ভরসা রাখছেন ঘরোয়া উপাদানের ওপর। সে তালিকায় নতুন করে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে তেঁতুল। চলুন তেঁতুল কীভাবে ব্যবহার করবেন জেনে নিই।
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় মাথার ত্বকে ঘাম, তেল ও ময়লা জমে যায়। এই জমে থাকা ময়লাই অনেক সময় চুলের গোড়া দুর্বল করে দেয়। তেঁতুলের হালকা অম্লীয় প্রকৃতি স্ক্যাল্পকে প্রাকৃতিকভাবে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এটি অতিরিক্ত তেল ও জমে থাকা প্রোডাক্টের স্তর দূর করতে পারে। পরিষ্কার স্ক্যাল্প চুলের বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্ক্যাল্প যত সুস্থ থাকবে, চুলও তত বেশি প্রাণবন্ত থাকবে।
যদিও তেঁতুল পুরোপুরি চুলপড়া বন্ধ করতে পারে না। কোনো একক উপাদানই চুলপড়ার সমস্যা সম্পূর্ণ দূর করতে পারে না। চুলপড়ার কারণ হতে পারে মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন, খুশকি, ভিটামিনের ঘাটতি, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কিংবা বংশগত কারণ।
আর তেঁতুল স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তেল, জ্বালা বা ময়লা জমার কারণে যে ধরনের চুল পড়ে, তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে। তাই তেঁতুলকে অলৌকিক চিকিৎসা নয়, বরং একটি স্বাস্থ্যকর হেয়ারকেয়ার রুটিনের অংশ হিসেবে দেখা উচিত। যাদের মাথার ত্বক খুব দ্রুত তেলতেলে হয়ে যায়, তারা এই সহজ হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এক টুকরো তেঁতুল ২০ মিনিট গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে তার পাল্প বের করে নিন। এরপর এর সঙ্গে টকদই ও এক চামচ মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি মূলত স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্ক স্ক্যাল্প পরিষ্কার করার পাশাপাশি আর্দ্রতাও বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
আর নারিকেল তেল বহুদিন ধরেই ভারতীয়দের প্রিয় চুলের পরিচর্যার উপাদান। এর সঙ্গে তেঁতুল মিশিয়ে ব্যবহার করলে স্ক্যাল্প আরও পুষ্টি পেতে পারে। হালকা গরম নারিকেল তেলের মধ্যে সামান্য তেঁতুলের পাল্প মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ছেঁকে নিন। এরপর ধীরে ধীরে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। এই ম্যাসাজ রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে, যা চুলের গোড়াকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে। তেঁতুল ও নিমপাতার পেস্টও খুশকি কমাতে অনেকেই ব্যবহার করেন। তবে সপ্তাহে একবারের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ তেঁতুলের অম্লীয় প্রকৃতি চুলকে শুষ্ক করে দিতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



