প্রস্রাব আপনার শরীরের ভেতরের নানা অবস্থার প্রাথমিক সংকেত দিয়ে থাকে। তবে এটি দিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত রোগ নির্ণয় করা যায় না। প্রস্রাবের রঙ, গন্ধ কিংবা ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার প্রবণতা অনেক বিষয়ের ইঙ্গিত দিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা করা জরুরি। কারণ দৈনিক ৪ থেকে ৮ বার প্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক। এর বেশি হলেই অস্বাভাবিক।

কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন কয়েক দিন ধরে দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। সময়মতো রোগ ধরা পড়লে কিডনিকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব হয়। আর প্রস্রাবে একটি পরিবর্তন দেখলেই সাবধান! কিডনি নষ্ট হওয়ার আগে মিলতে পারে বড় ইঙ্গিত। তাই অনেকেই মনে করেন, প্রস্রাবের রঙ বা গঠন দেখেই কিডনির সব সমস্যা ধরা যায়।
একদম ঠিক বলেছেন। প্রস্রাবের রঙ ও গন্ধ শরীরের হাইড্রেশনের মাত্রা এবং সাধারণ কিছু রোগের প্রাথমিক ইঙ্গিত দেয়, তবে এটিই চূড়ান্ত রোগ নির্ণয় নয়। প্রস্রাবের লক্ষণ দেখে কোনো রোগের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় না। কারণ অনেক সময় সাধারণ খাবার বা ওষুধের প্রভাবেও এর রঙ পরিবর্তন হতে পারে।
এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। প্রস্রাব অনেক তথ্য দিলেও শুধু সেটি দেখে কিডনি সুস্থ না অসুস্থ— এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। সাধারণত হালকা হলুদ কিংবা ফিকে হলুদ রঙের প্রস্রাব স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। এর অর্থ— শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি রয়েছে। কিন্তু যদি প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হয়ে যায়, তাহলে তা শরীরে পানির অভাবের ইঙ্গিত হতে পারে।
তবে কিছু পরিবর্তনকে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। যদি প্রস্রাবে রক্ত দেখা যায়, বারবার ফেনা তৈরি হয়, প্রস্রাবে তীব্র দুর্গন্ধ থাকে, প্রস্রাবের পরিমাণ হঠাৎ অনেক কমে যায় বা প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া ও ব্যথা হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এগুলো কিডনির সমস্যা, মূত্রনালির সংক্রমণ, পাথর বা অন্য কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে।
চিকিৎসকরা আরও বলেন, কিডনির প্রকৃত অবস্থা জানতে কয়েকটি পরীক্ষা করা ভীষণ জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে— ইউরিন টেস্ট, যেখানে প্রস্রাবে প্রোটিন বা অ্যালবুমিন আছে কিনা দেখা হয়। আর রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা, ইজিএফআর পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে আল্ট্রাসোনোগ্রাফিও করা হয়। এ পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমেই কিডনি ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, তা নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব।
কিডনির অনেক রোগই প্রথম দিকে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। তাই শুধু প্রস্রাবের রঙ দেখে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকা ঠিক নয়। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা বা পরিবারে কিডনির রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো উচিত।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
কিডনি ভালো রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা খুবই জরুরি। অতিরিক্ত লবণ, তেল-মসলাযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খেতে হবে। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে অবশ্যই সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। কারণ এ দুই রোগই কিডনি নষ্ট হওয়ার অন্যতম বড় কারণ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ব্যথার ওষুধ খাওয়াও কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



