ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়য়ের প্রফেসার ইমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান,বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিক্ষা, গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান একটি উজ্জ্বল ও সুপ্রতিষ্ঠিত নাম। ঔষধি উদ্ভিদ গবেষণা ও ফাইটোকেমিস্ট্রিতে অসামান্য অবদানের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান

Advertisement

১৯৫৩ সালের ৩১ আগস্ট জন্মগ্রহণকারী ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি. ফার্ম. (অনার্স) ও এম. ফার্ম. (থিসিস গ্রুপ) ডিগ্রি অর্জন করেন যথাক্রমে ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে (পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৫ ও ১৯৭৬ সালে)। উভয় পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যের স্ট্র্যাথক্লাইড বিশ্ববিদ্যালয়, গ্লাসগো থেকে ফাইটোকেমিস্ট্রিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন (১৯৮২), যেখানে তিনি কমনওয়েলথ স্কলারশিপ্রাপ্ত ছিলেন।

১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন ড. হাসান। দীর্ঘ একাডেমিক জীবনে তিনি ১৯৯২ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন হিসেবেও দুই মেয়াদে (১৯৯৯-২০০৩) নির্বাচিত হন।

একাডেমিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঔষধ প্রশাসনের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বৈজ্ঞানিক ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)-এর চেয়ারম্যান এবং ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মানারাত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন।
জাতীয় ঔষধ নীতি প্রণয়নে ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসানের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি ২০০৫ সালের জাতীয় ঔষধ নীতিতে এবং ঔষধ অধ্যাদেশে “ভেষজ ঔষধ” অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

গবেষণাক্ষেত্রে তাঁর কাজ মূলত দেশীয় ঔষধি উদ্ভিদের রাসায়নিক ও জৈবিক বিশ্লেষণের ওপর কেন্দ্রীভূত। স্পেকট্রোস্কোপিক কৌশল ব্যবহার করে গৌণ বিপাকীয় পদার্থের গঠন বিশ্লেষণে তিনি বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। এ পর্যন্ত তিনি ১৪ জন পিএইচডি ও ৬৫ জনের বেশি এম. ফার্ম. শিক্ষার্থীর গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় জার্নালে প্রকাশিত তাঁর গবেষণাপত্রের সংখ্যা ৩১৫টিরও বেশি। গুগল স্কলারে তাঁর গবেষণাকর্ম ৪,৮৪০ বারের বেশি উদ্ধৃত হয়েছে।

বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় তিনি চেয়ারম্যান, প্লেনারি বক্তা ও উপস্থাপক হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন।

গবেষণা ও শিক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি হাবিবুর রহমান স্বর্ণপদক (২০০৩), বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি স্বর্ণপদক (২০০৬), চন্দ্রাবতী স্বর্ণপদক (২০০৭) এবং অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক (২০০৮) অর্জন করেন।

আরও পড়ুনঃ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া বেতন নিয়ে জরুরি নির্দেশনা

তিনি আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি, আমেরিকান সোসাইটি অব ফার্মাকগনোসি, রয়েল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রি এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল বিজ্ঞান ও গবেষণায় এক অনন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে সুপরিচিত।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Tarek Hasan is a professional journalist and currently works as a sub-editor at Zoom Bangla News. With six years of experience in journalism, he is an experienced writer with a strong focus on accuracy, clarity, and editorial quality. His work contributes to delivering reliable and engaging news content to digital audiences.