জুমবাংলা ডেস্ক : তাবলিগ জামাতে এসে এসএসসি’র ফল প্রত্যাশী চার শিক্ষার্থী বলাৎকারের শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার (২১ মার্চ) রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের বেলতলী সম্মিলিত কবরস্থান জামে মসজিদে। এ ঘটনায় জন্য জিম্মাদার (আমীর) মোঃ ফিরোজ মিয়াকে এলাকাবাসী গণধোলাই দেয়।

ভিকটিমদের সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষা শেষে ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলাম প্রচারের জন্য ১৫জন শিক্ষার্থীসহ ১৯জনকে নিয়ে টেকনাফের জাদিমোরা এলাকা থেকে ৪০দিনের একচিল্লায় বের হয়। তাদের জিম্মাদার (আমীর) ছিলেন মোঃ ফিরোজ মিয়া। তাদের সবার বাড়ি চট্টগ্রামের টেকনাফে। ৬মার্চ আসেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সিধলা ইউনিয়নে।

এ ইউনিয়নের ৫টি মসজিদে ধর্মীয় প্রচারণা শেষে সবাই আসেন সিধলা ইউনিয়নের বেলতলী সম্মিলিত কবরস্থান জামে মসজিদে। এক শিক্ষার্থীকে ভোরে বিষন্ন দেখায়। আস্তে আস্তে একে অপরের সঙ্গে বলাবলি করতে থাকে। এ মসজিদে আসার পর তারা টের পান, তাদের সাথীদের (বন্ধু) সঙ্গে জিম্মাদার বলাৎকারের ঘটনা ঘটাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থী জানায়, ওইদিন (শুক্রবার দিবাগত) রাতে তারা পরিকল্পনা করেন। আমীরকে হাতে-নাতে ধরতে হবে। সেই পরিকল্পনায় রাতের খাবার শেষে ঘুমের ভান ধরে শোয়ে পড়ে। রাত ১১টা ১৫মিনিটের দিকে জিম্মাদার মোঃ ফিরোজ মিয়া এক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিনের ন্যায় বলাৎকারের চেষ্টা করলে একযোগে সবাই হাতে-নাতে ধরে ফেলেন। মসজিদের ভিতরে শিক্ষার্থীদের হাতে-পায়ে ধরে ক্ষমা প্রার্থনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় হট্টগোল।

এদিকে মধ্যরাতে মসজিদের ভিতরে হট্টগোল ও বাকবিতন্ডার আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তাদেরই একজন বেলতলী মাঝপাড়ার কছম উদ্দিনের পুত্র আজিজুল ইসলাম ছোট্ট।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা ঘটনাটি জানালে জিম্মাদার প্রকাশ্যে স্বীকার করে ওই শিক্ষার্থীদের পায়ে ধরে ক্ষমা চায়। পাশের আরেক দোকানদার মিরাজ মিয়া জানান, লজ্জাজনক এ ঘটনায়টি স্থানীয় আমির মোঃ আল আমিনকেও জানানো হয়। স্থানীয় আমীর বেলতলী গ্রামের মোঃ আল আমিন জানান, রাত ১২টার দিকে দু/তিনজন শিক্ষার্থী আমাকে এসে নিয়ে যায়। বেলতলী গ্রামের খোকনের দোকানে অনেক মানুষের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা তাদের ঘটনা জানায়, এ ঘটনায় জন্য ভুল স্বীকার করেন মোঃ ফিরোজ মিয়া। তাকে কোন শাস্তি না দিতে শিক্ষার্থীরাই অনুরোধ জানায়। তাদের অনুরোধেই ফিরোজ মিয়াকে ছেড়ে দেয়া হয়। আর শিক্ষার্থীদের ময়মনসিংহ মার্কাজ মসজিদে পাঠানো হয়েছে।

অপরদিকে শিক্ষার্থীরা আরো জানায়, ওই জিম্মাদার প্রত্যেক মসজিদেই একেক শিক্ষার্থীকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন এ নির্যাতন চালিয়ে আসছিলো। বলাৎকারের শিকার চার জনের মধ্যে দুই জন হ্নীলা জাদিমোরা ও ২জন চকরিয়ার। নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরাও লাজ-লজ্জার ভয়ে জিম্মাদারের এসব অপকর্ম কাউকে বলতে পারেনি। ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দীয় ও লজ্জাজনক উল্লেখ করেন সিধলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ নুরুল ইসলাম বরেন, রাতে আমি যেতে পারি নাই, সকালে শোনেছি সালিশ করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

জিম্মাদার মোঃ ফিরোজ মিয়ার বক্তব্য নিতে চাইলে তাকে মুঠোফোন পাওয়া যায়নি। এরপর তার পুত্র ফারুক মিয়া মুঠোফোনে কল দেয়া হয়। ফারুক মিয়া প্রথমে জানান তার বাবা পাশেই আছে, সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরই বক্তব্য পাল্টিয়ে বলেন, তার বাবা এখানে নেই। বাবা আসলে কল দেয়ার প্রতিশ্রæতি দেন। তবে এরপর একাধিকবার কল দিলেও ফোন রিসিভ করেননি।

এ প্রসঙ্গে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বোরহান উদ্দিন জানান, ঘটনাটি শোনেছি। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ অফিসার পাঠানো হয়েছে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.