Advertisement

জুমবাংলা ডেস্ক : বিচার চাইতে চেয়ারম্যানের কাছে ধরনা দিয়েছেন এক নারী। আর সেই নারীকে ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রেখে পেটালেন ওই চেয়ারম্যান। এমনই এক অভিযোগ উঠেছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর কাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

নির্যাতনের শিকার রিমি অভিযোগ করেন, গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চর কাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চেয়ারম্যান হাজি সফি উল্যাহ এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, নির্যাতনের শিকার ওই নারী এবং তার মাকে পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আটকে রাখা হয় প্রায় ৪ ঘণ্টা।

নির্যাতনের শিকার সাবিনা ইয়াসমিন রিমি জানান, গত আগস্ট মাসে জন্ম নিবন্ধনের কার্ড করতে চর কাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গেলে বোর্ড অফিসের তথ্য সেবা কর্মকর্তা রিয়াদ তার ওপর হামলা চালায়। এ হামলার বিচারের দাবি করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়। রোববার সকালে ওই অভিযোগ পত্রে হামলার সত্যতার পক্ষে স্বাক্ষর নিতে ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গেলে চেয়ারম্যান তার স্বামী রিয়াদের পক্ষ নিয়ে প্রথমে তাকে এবং তার মাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে, পরে মোটা একটি লাঠি দিয়ে তার চোখে আঘাত করে। এরপর চৌকিদার আবদুর রবসহ অজ্ঞাত এক যুবককে তার ওপর লেলিয়ে দেয়। চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে চৌকিদার আবদুর রব ও অজ্ঞাত এক যুবক ওই নারীকে বেধড়ক মারধর করে।

নির্যাতনের শিকার সাবিনা ইয়াসমিন রিমা আরও জানান, তার স্বামী রিয়াদ হোসেন চর কাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের তথ্য সেবা কেন্দ্রে চাকরি করে। পরিবারের অমতে রিয়াদের সঙ্গে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে তার বিয়ে হয়। পরে রিয়াদ তাকে তার বাড়িতে তুলে নিতে অস্বীকার করলে তার বিরুদ্ধে নারীও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন তিনি। ওই মামলা এখনও চলমান। পূর্ব শক্রতার জের ধরে তথ্য সেবা কর্মকর্তার পক্ষ নিয়ে চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আটকে রেখে এ নির্যাতন চালিয়েছে।

এ ঘটনায় চরকাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজি সফি উল্যাহর সঙ্গে রাত সাড়ে ৮টায় ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি লাঠি দিয়ে আঘাত করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি তার সন্তানের জন্মনিবন্ধন করতে বার বার বলার পরও সে সন্তানের বাবার নাম দিয়ে তা করতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে শাসন করেছি। আমার বয়স এখন ৭১ বছর। সন্তান হিসেবে একটু শাসন করেছি। এখন এটি ভুল করলাম না সঠিক করলাম সেটি আপনাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। আমরা জনপ্রতিনিধিরা যদি খারাপ মেয়েদের একটু থ্রেডিং দিয়ে ঠিক করতে না পারি, তাহলে আমরা কিসের জনপ্রতিনিধি।

তিনি আরও দাবি করেন, তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে শাসন করতেই পারেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, বোর্ড অফিসের লোকজন তাকে টানা হেঁচড়া করে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় তার শরীরের বিভিন্নস্থানে জখম হয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, সন্ধ্যায় নির্যাতিতা নারী থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশে পাঠিয়েছি। ঘটনার সত্যতা জেনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে যা শুনেছি এটি করা সঠিক হয়নি। সূত্র : জাগো নিউজ

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.