Advertisement
জুমবাংলা ডেস্ক : বাংলাদেশে মিনিকেট জাতের কোনো ধানও নেই, চালও নেই। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আজ পর্যন্ত এই জাতের কোনো ধান উদ্ভাবনও করেনি। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও মিনিকেট জাতের কোনো ধান নেই। তবে ভারত সরকারের কৃষিবিভাগ তাদের ধান উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সে দেশের ধানচাষীদের মাঝে সার, কীটনাশকসহ বিভিন্ন উপকরণের প্রণোদনা প্যাকেজ দেয়, তারা সেটাকে ‘মিনিকিট’ বলে থাকে। সেই মিনিকিট শব্দটাকে পুঁজি করেই হয়ত বাংলাদেশে মিনিকেট শব্দটা প্রচলিত করেছেন কতিপয় অসাধু চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

আজ বুধবার দুপুরে জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশে জিঙ্কসমৃদ্ধ বিভিন্ন জাতের ব্রি-ধান, গম, মসুর ডালের চাষাবাদ বৃদ্ধি এবং সরকারি ক্রয় ও বিতরণ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তিকরণ বিষয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশ আয়োজিত কর্মশালায় কথিত ‘মিনিকেট’ চাল প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তুলে ধরেন জামালপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ সাখাওয়াত ইকরাম।

কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত ইকরাম বলেন, বাংলাদেশের কতিপয় অসাধু চালকল মালিক অধিক মুনাফা লাভের আশায় কথিত এই ‘মিনিকেট’ চালের ব্যবসা করছে। তারা বাংলাদেশের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত চিকন ও মোটা জাতের বিভিন্ন ধান বা হাইব্রিড জাতের বিভিন্ন ধান চালকলে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ছাটাইবাছাই করে চালের একটা বিশেষ আকার তৈরি করে সেই চালকেই মিনিকেট নাম দিয়েছেন। তারা আকর্ষণীয় মোড়কে বাজারে এবং বড় বড় শহরের শপিংমলে বাজারজাত করে চড়া মূল্যে এই মিনিকেট চাল বিক্রি করছে। চালকলে বিশেষ মেশিনের সাহায্যে প্রক্রিয়াজাত করার কারণে সুন্দর দেখা গেলেও প্রচলিত সাধারণ ধানের চালের মতো পুষ্টিগুণ কথিত ‘মিনিকেট’ চালের ভাতে থাকে না। এই কথিত ‘মিনিকেট’ জাতের কোনো ধান ভারতেও উদ্ভাবিত হয়নি।

কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, বাংলাদেশে যেহেতু মিনিকেট জাতের কোনো ধান আজো উদ্ভাবন হয় নাই, তাহলে ধরে নেয়া যেতে পারে যে এই দেশের কতিপয় অসাধু চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীরা কথিত ‘মিনিকেট’ চালের ব্যবসার নামে সবাইকে ঠকাচ্ছে। এই মিনিকেট চালের কারণে দেশীয় জাতের ধানের চালও একদিকে বাজার হারাচ্ছে ও ক্রেতারা ঠকছেন। অন্যদিকে অজ্ঞানতার বশে চটকদার পুষ্টিগুণহীন কথিত ‘মিনিকেট’ চালের ভাত খেয়েও অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দেশে প্রচলিত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের মাধ্যমে মিনিকেট চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলে দেশের কৃষক ও সাধারণ মানুষ অনেক উপকৃত হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত জিঙ্কসমৃদ্ধ বোরো মওসুমের ব্রি ধান ৭৪ ও ৮৪ এবং আমন মওসুমের ব্রি ধান ৬২, ৭২ ও ২০ জাতের ব্রি-ধানসহ বিভিন্ন জাতের জিঙ্কসমৃদ্ধ গম ও মসুর ডাল চাষাবাদ হচ্ছে। নারী-পুরুষের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে জিঙ্কসমৃদ্ধ ধান, গম ও মসুর ডালসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সরকারি ক্রয় ও বিক্রয় ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকার, সরকারের কৃষি বিভাগ, বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কাজ করছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ব্লিংগস প্রকল্পের আওতায় হারভেস্টপ্লাস আয়োজিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জামালপুর সদরের এসিল্যান্ড মাহমুদা বেগম। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল হোসেন। কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. কে এম শফিকুজ্জামান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা ইয়াসমিন, সদর উপজেলা পরিষদের মহিরা ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা ইয়াসমিন লিটা, ওয়ার্ল্ডভিশনের জেলা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান, ব্লিংগস প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. হাবিবুর রহমান খান প্রমুখ।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে হার্ভেস্টপ্লাসহ ওয়ার্ল্ডভিশন, উন্নয়ন সংঘ এবং ইনস্টিটিউট অব ডেভলপমেন্ট স্টাডিজ ব্লিংগস প্রকল্পের মাধ্যমে জামালপুর জেলায় জিংক সমৃদ্ধ ধান, গম ও মসুরের চাষাবাদ বৃদ্ধি এবং সরকারি ক্রয় ও বিতরণ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তিকরণে কাজ করছে। কর্মশালায় ৮০ জন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, এনজিও কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশ নেন।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.