Advertisement

জুমবাংলা ডেস্ক : ঝালকাঠিতে আরাফ ও আয়ান নামের ১৬ মাসের দুই যমজ ছেলে সন্তানকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ফেলে গেলেন এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রী। স্বামী ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন না করায় রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শিশু দুটিকে রেখে চলে যান মা সুমাইয়া আক্তার।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশু দুটির বাবা ইমরান হোসেন কাঁঠালিয়া থানা পুলিশের কনস্টেবল পদে কর্মরত। বর্তমানে এক মাসের প্রশিক্ষণের জন্য জামালপুরে অবস্থান করছেন ইমরান হোসেন। তার বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার মালুহার গ্রামে।

২০১৯ সালের মে মাসে সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় কনস্টেবল ইমরানের। দাম্পত্য কলহের জেরে এ বছরের মার্চ মাসে স্ত্রীকে তালাক নোটিশ পাঠায় ইমরান। তালাক নোটিশ পেয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করেন সুমাইয়া আক্তার।

শিশু দুটির মা সুমাইয়ার আক্তারের দাবি তালাক নোটিশ পাঠানোর আরও আগে থেকে তার এবং সন্তানদের কোনো ভরণপোষণ দিচ্ছে না ইমরান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে চায়ের দোকানি মাহফুজ মিয়া বলেন, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে একজন নারী তার দুই শিশু সন্তানকে এসপি অফিসের চেক পোস্টের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সামনে রেখে যান।

যাওয়ার সময় তিনি বলে যান, তোমাদের সন্তান তোমাদের কাছেই থাক। পরে শিশু দুটিকে সন্ধ্যায় ঝালকাঠি সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শিশু দুটির কান্নায় থানার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

সুমাইয়া আক্তার ফোনে জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশু ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে। রোববার সকালে চিকিৎসকরা শিশু দুটির বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলেন। এতে প্রায় প্রায় ৬ হাজার টাকার প্রয়োজন ছিল।

বিষয়টি কনস্টেবল ইমরানকে জানানো হলে তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাই বাধ্য হয়ে শিশু দুটিকে নিয়ে পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিনের সাক্ষাতে জন্য যাই। কিন্তু প্রধান ফটকের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইমরান মিয়া ও মো. সুমন নামে দুই পুলিশ সদস্য আমাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে শিশু সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে রেখে চলে এসেছি।

সুমাইয়া আরো বলেন, বাচ্চাদের লালন-পালন করতে আমার কোন আপত্তি নেই, কিন্তু ওদের লালন-পালনের খরচ আমি কীভাবে বহন করব। আমার তো সে সামর্থ্য নেই।

কনস্টেবল ইমরান মোবাইল ফোনে জানান, প্রতি মাসে শিশু দুটির ভরণপোষণের জন্য আমি তিন হাজার টাকা সুমাইয়ার ব্যাংক হিসেবে পাঠাই। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী তাদের খোঁজখবর নিই। কিন্তু মা হয়ে সে কীভাবে সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ফেলে গেল?

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খলিলুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি। শিশুদের দাদা দাদীকে খবর দেয়া হয়েছে। তাঁরা আসলে শিশু দুটিকে তাঁদের হাতে তুলে দেয়া হবে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.