অনলাইনভিত্তিক সিসা বিক্রির একটি নেটওয়ার্কে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ভাইসহ তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৬৬ কেজি সিসাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এটি দেশে এক অভিযানে জব্দ হওয়া সর্বোচ্চ পরিমাণ সিসা।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার যমজ দুই ভাই হলেন আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি। গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তি হলেন মো. মাকসুদ আলম। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রাজধানীর ভাটারা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন বলেন, “গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফির মা–বাবা ইরানের নাগরিক। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে তাদের মা–বাবা বাংলাদেশে আসেন। এই দুই ভাইয়ের জন্ম বাংলাদেশে। ইরানে তাদের যাওয়া–আসা চলছিল। ইরানে অবস্থানকালে তারা সিসা ব্যবসার কার্যক্রম, বাজার ব্যবস্থা, সরবরাহের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেন। বাংলাদেশে ফিরে তারা অনলাইনভিত্তিক সিসা বিক্রির নেটওয়ার্ক গড়েন। ধীরে ধীরে বিভিন্ন জেলায় কার্যক্রম বিস্তৃত করেন। প্রথমে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে মাকসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মোহাম্মদ বদরুদ্দীন বলেন, “গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি সিসার দুটি চালান কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এক ক্রেতার কাছে পাঠাবেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ কেজি সিসার পার্সেলটি জব্দ করা হয়। একই দিন মালিবাগ থেকে জব্দ করা হয় ১ কেজি সিসার আরেকটি পার্সেল। জব্দ করা পার্সেলের প্রেরকের ঠিকানা যাচাই করে একই দিন গুলশানের কালাচাঁদপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফ্ল্যাটটি থেকে ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা ও ২০টি হুঁকা উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেন, তাদের কাছে সিসার চালানের বড় অংশ আসে মাকসুদের কাছ থেকে, যিনি রাজধানীর ভাটারা এলাকায় থাকেন। পরে সেখান থেকে মাকসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ১৮ কেজি সিসা ও ২১টি হুঁকা উদ্ধার করা হয়।”
“অভিযানে সিসা সেবনের ৪০ কেজি কয়লা ও মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত ৫টি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। এটি দেশের ইতিহাসে এক অভিযানে জব্দ করা সর্বোচ্চ সিসার চালান।”
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দুই ভাই ফেসবুক পেজের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সিসা বিক্রি করে আসছিলেন। এই পেজের মাধ্যমেই গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ, পণ্যের ছবি প্রকাশ, অর্ডার নেওয়া ও মূল্য নির্ধারণ করা হতো। অর্ডার নিশ্চিত হওয়ার পর কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তা ক্রেতার কাছে পাঠানো হতো। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে চক্রটি অর্থ গ্রহণ করত।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ বদরুদ্দীন বলেন, “অভিযানে জব্দ মুঠোফোন এবং ফেসবুক পেজে থেকে তারা বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের একটি ডেটাবেজ পেয়েছেন। তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ক্রেতা, পরিবেশক, সহযোগীসহ এই নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। এছাড়া ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



