আমাদের সৌরজগতের বাইরে থেকে আগত এক বিরল ধূমকেতু নিয়ে নতুন ও চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। ‘৩আই/অ্যাটলাস’ নামের এই আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূমকেতুটির উৎপত্তি এমন এক সৌরজগতে, যার পরিবেশ ও গঠন আমাদের সৌরজগতের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ধূমকেতু

Advertisement

গত বছরের জুলাই মাসে প্রথমবারের মতো ধূমকেতু ৩আই/অ্যাটলাস শনাক্ত করা হয়। তখন এটি দ্রুতগতিতে আমাদের সৌরজগত অতিক্রম করছিল। এটি এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া মাত্র তৃতীয় আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তু। পরবর্তীতে ডিসেম্বর মাসে এটি সৌরজগত ত্যাগ করতে শুরু করে। নভেম্বরে নাসার হাবল মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্রও এটি পর্যবেক্ষণ করে।

সম্প্রতি ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানানো হয়, চিলির অ্যাটাকামা লার্জ মিলিমিটার/সাবমিলিমিটার অ্যারে (ALMA) রেডিও দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এই ধূমকেতুর ভেতরের গঠন বিশ্লেষণ করেন। এতে প্রথমবারের মতো কোনো আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তুর মধ্যে ডিউটেরিয়াম—হাইড্রোজেনের একটি ভারী রূপ—সনাক্ত করা সম্ভব হয়।

গবেষণার প্রধান লেখক লুইস এদুয়ার্দো সালাজার মানজানো জানান, ৩আই/অ্যাটলাসের পানিতে ডিউটেরিয়ামের পরিমাণ পৃথিবীর মহাসাগরের তুলনায় প্রায় ৪০ গুণ বেশি এবং আমাদের সৌরজগতের ধূমকেতুগুলোর তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ বেশি। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ধূমকেতুটির জন্ম হয়েছিল অত্যন্ত শীতল পরিবেশে, যেখানে তাপমাত্রা ৩০ কেলভিনের নিচে—অর্থাৎ প্রায় মাইনাস ২৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আগের গবেষণায় আরও ধারণা পাওয়া গেছে যে, ধূমকেতুটির বয়স প্রায় ১১০০ কোটি বছর হতে পারে, যা সূর্য ও সৌরজগতের বয়সের দ্বিগুণেরও বেশি। বিজ্ঞানীদের মতে, এমন ধূমকেতু আসলে ‘সময়ের সংরক্ষিত দলিল’, যা মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির প্রাচীনতম সময়ের ভৌত ও রাসায়নিক পরিবেশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে আরও আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূমকেতু আবিষ্কৃত হলে মহাবিশ্বের ইতিহাস ও গঠন সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Mynul Islam Nadim is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He is involved in refining content to ensure accuracy, clarity, and consistency for digital platforms. His work reflects a commitment to responsible journalism and audience-focused reporting.