মহাকাশে ভেসে থাকা একটি পুরোনো টেলিস্কোপকে পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করতে ব্যতিক্রমী এক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয়ে পরিচালিত এই অভিযানের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পৃথিবীর দিকে নেমে আসা টেলিস্কোপটিকে নিরাপদ কক্ষপথে স্থানান্তর করা হবে।

২০০৪ সালে উৎক্ষেপণ করা নাসার ‘সুইফট’ মহাকাশ টেলিস্কোপ দীর্ঘদিন ধরে মহাবিশ্বের রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সূর্যের বিকিরণ ও মহাকাশ পরিবেশের প্রভাবে এর কক্ষপথ ক্রমেই নিচে নেমে আসছে। ফলে ভবিষ্যতে এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাটালিস্ট স্পেস টেকনোলজিস’-এর সহযোগিতা নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে প্রশান্ত মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ থেকে ‘লিংক’ নামের একটি বিশেষ রোবট মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হবে। তিনটি যান্ত্রিক বাহুযুক্ত এই রোবটের কাজ হবে মহাকাশে গিয়ে সুইফট টেলিস্কোপকে ধরে আরও উঁচু ও নিরাপদ কক্ষপথে নিয়ে যাওয়া।
বর্তমানে সুইফট টেলিস্কোপটি পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২২৪ মাইল উচ্চতায় অবস্থান করছে। সফলভাবে অভিযান সম্পন্ন হলে লিংক এটিকে প্রায় ৩৭৩ মাইল উচ্চতায় স্থানান্তর করবে। পুরো কার্যক্রম শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই টেলিস্কোপটি আবার পূর্ণ সক্ষমতায় বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।
নাসার কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান আর্থিক বাস্তবতায় সুইফটের মতো নতুন একটি মহাকাশ টেলিস্কোপ নির্মাণ করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাই বিদ্যমান এই পর্যবেক্ষণযন্ত্রকে সচল রাখা সংস্থাটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই অভিযান সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বড় মহাকাশযান ও টেলিস্কোপ রক্ষার পথ খুলে যাবে। বিশেষ করে ২০২৮ সালের মধ্যে একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাসার ঐতিহাসিক ‘হাবল স্পেস টেলিস্কোপ’-কেও নিরাপদ কক্ষপথে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। হাবলও ধীরে ধীরে কক্ষপথ হারিয়ে পৃথিবীর দিকে নেমে আসছে।
উল্লেখ্য, কক্ষপথে থাকা মহাকাশযানকে ধরে অন্য কক্ষপথে সরিয়ে নেওয়ার এমন জটিল অভিযান খুবই বিরল। এর আগে ২০২২ সালে চীন সফলভাবে এ ধরনের একটি মিশন পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ অঙ্গনের নজর কাড়ে। নাসার এবারের উদ্যোগ তাই শুধু একটি টেলিস্কোপ রক্ষার প্রচেষ্টা নয়, বরং ভবিষ্যতের মহাকাশ রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



