দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও দাবির পর অবশেষে উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর বগুড়া-র প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো পৌরসভা উন্নীত হলো দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশনে। সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিটি করপোরেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন তারেক রহমান।

এর ফলে দেশের সিটি করপোরেশন তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই শহর। উদ্বোধনের পর তিনি স্মারক ফলক উন্মোচন করেন এবং পৌরসভা চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বগুড়াকে সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা করা হলেও শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নাগরিকদেরই। তিনি পথে আসার সময় বিভিন্ন স্থানে ময়লা দেখার কথা উল্লেখ করে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রশাসনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মীর শাহে আলম, আতিকুর রহমান রুমনসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তারেক রহমানের প্রথম সরকারি সফর বগুড়ায়। সকালে তিনি সার্কিট হাউসে পৌঁছানোর পর বগুড়া জজ আদালতে ই-বেইল বন্ড সেবার উদ্বোধন করেন। পরে গাবতলী উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং বিকেলে জেলা বিএনপির সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
এই সফর ঘিরে শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীরা জড়ো হন তাকে একনজর দেখার জন্য। সিটি করপোরেশন ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র—মিষ্টি বিতরণ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বগুড়ার জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শহরটি দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত নগরসেবার কারণে নানা সমস্যায় ভুগছিল।
১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভা দেশের অন্যতম প্রাচীন পৌর প্রতিষ্ঠান। সময়ের সঙ্গে এর আয়তন বাড়লেও সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার দাবি দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। অবশেষে সেই দাবি পূরণ হওয়ায় এখন বড় পরিসরে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক সম্প্রসারণ ও ডিজিটাল নাগরিক সেবা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের আশা, যানজট, জলাবদ্ধতা, ফুটপাত দখল ও অপরিকল্পিত নগরায়নের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান হবে। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ, শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানও বাড়বে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আজকের এই ঘোষণা শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়—এটি বগুড়ার জন্য একটি নতুন, আধুনিক নগর গড়ার সূচনা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


