দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর আবারও বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রী নিয়ে সরাসরি পাকিস্তানের করাচির উদ্দেশে যাত্রা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট। ১৬২ আসনের এই উদ্বোধনী ফ্লাইটের সব টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বলে মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. সাফিকুর রহমান।

বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় উদ্বোধনী ফ্লাইটটি ঢাকা ত্যাগ করবে এবং টানা তিন ঘণ্টা আকাশপথ পাড়ি দিয়ে করাচি বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। প্রথম ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রদূতগণও সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এই রুটে ফ্লাইট চালুর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। পাকিস্তান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে বিমান বাংলাদেশকে এই রুট ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রদান করেছে, যা প্রাথমিক পর্যায়ে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এই রুটে নন-স্টপ ফ্লাইট পরিচালনা করবে। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ার ফলে যাত্রীরা ট্রানজিট ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন এবং ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে, সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা থেকে।
প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও শনিবার ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান বাংলাদেশ। ১৬২ আসনের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ দিয়ে ঢাকা থেকে করাচি পর্যন্ত ১,৪৭১ মাইল পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে প্রায় ৩ ঘণ্টা।
বিমান বাংলাদেশের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন, প্রথম ফ্লাইটের সব সিট ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ফ্লাইটের ৮০ শতাংশের বেশি সিট বুকড রয়েছে। তিনি বলেন, “আগে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় যাত্রীদের মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ট্রানজিট হাব ঘুরে যেতে হতো, যা সময় ও খরচ দুই-ই বাড়াতো। এখন যাত্রা হবে দ্রুত ও ঝামেলাহীন।”
সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে রাউন্ড ট্রিপে যাত্রীদের খরচ কমে সর্বনিম্ন ৫১ হাজার টাকা হতে পারে, যা আগে ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বেশি পড়ত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রুট চালু হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও সামাজিক যোগাযোগ বাড়বে। দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক ও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, “যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি এই রুটে কার্গো পরিবহনেরও বড় সুযোগ রয়েছে।”
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত পাকিস্তান পর্যটন খাত প্রতিবছর ৩০–৪০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করে। ফলে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য করাচি নতুন ও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে ধরা যেতে পারে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০১২ সালে ঢাকা–করাচি ফ্লাইট বন্ধ হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর রুটটি পুনরায় চালু হওয়াকে দুই দেশের আকাশপথে নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


