মহাকাশের গভীর থেকে আসা রহস্যময় নীল আলোর উৎস অনুসন্ধানে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। প্রথমবার ২০১৮ সালে টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই অদ্ভুত আলোর অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৪ বার এমন তীব্র নীল আলোর ঝলক পর্যবেক্ষণ করা গেছে। তবে এর প্রকৃত উৎস এখনো সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাকে নাম দিয়েছেন ‘লুমিনাস ফাস্ট ব্লু অপটিক্যাল ট্রানজিয়েন্ট’ বা সংক্ষেপে এলএফবিওটি। এই ধরনের আলো খুব অল্প সময়ের জন্য জ্বলে উঠে আবার দ্রুত মিলিয়ে যায়। সাধারণ মহাজাগতিক বিস্ফোরণের তুলনায় এটি প্রায় ১০০ গুণ বেশি উজ্জ্বল হতে পারে, যা একে মহাকাশবিজ্ঞানের অন্যতম রহস্যে পরিণত করেছে।
গবেষকদের ধারণা, একটি ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের সঙ্গে বিশেষ ধরনের উত্তপ্ত নক্ষত্রের সংঘর্ষের ফলেই এই আলো সৃষ্টি হতে পারে। অ্যানিয়া নুজেন্ট বলেন, এমন ঘটনা আগে কখনো পর্যবেক্ষণ করা হয়নি, তাই এর প্রকৃতি অত্যন্ত বিরল ও জটিল।
বিজ্ঞানীরা সংশ্লিষ্ট গ্যালাক্সিগুলোর গঠন, নক্ষত্রের সৃষ্টি হার এবং রাসায়নিক উপাদান বিশ্লেষণ করে দেখেছেন। তাদের মতে, ‘ওলফ-রায়েট’ ধরনের বৃহৎ ও ঘন নক্ষত্রের সঙ্গে ব্ল্যাক হোলের সংঘর্ষ থেকেই এই নীল আলোর উৎপত্তি হতে পারে।
ব্রায়ান মেটজার ব্যাখ্যা করেন, ব্ল্যাক হোল যখন কোনো নক্ষত্রকে গ্রাস করতে শুরু করে, তখন নক্ষত্রের ভেতরের পদার্থ দ্রুত টেনে নেয়া হয়। এতে প্রচণ্ড শক্তি উৎপন্ন হয়, যা আশপাশের উপাদানের সঙ্গে সংঘর্ষে নীল আলোর তীব্র ঝলক সৃষ্টি করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা আরও জানান, এই ধরনের নীল আলোগুলো সাধারণত গ্যালাক্সির বাইরের অঞ্চলে দেখা যায়। ২০২৩ সালে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ‘দ্য ফিঞ্চ’ নামের একটি এমনই নীল আলোর উৎস শনাক্ত করে, যা তার নিকটবর্তী গ্যালাক্সি থেকে প্রায় ৫০ হাজার আলোকবর্ষ দূরে একা জ্বলছিল। এই ঘটনা রহস্যকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



