মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বিরল ও স্মরণীয় মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ববাসী। আগামী বছরের ২ আগস্ট দেখা যাবে এই শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। সাধারণত পূর্ণ সূর্যগ্রহণ কয়েক মিনিট স্থায়ী হলেও এই গ্রহণ স্থায়ী হবে টানা ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড, যা বিজ্ঞানীদের মতে ১৯৯১ থেকে ২১৯৪ সালের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের গ্রহণ।

সূর্যগ্রহণ কীভাবে ঘটে
সূর্যগ্রহণ একটি স্বাভাবিক মহাজাগতিক প্রক্রিয়া। যখন চাঁদ তার কক্ষপথে চলার সময় পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে অবস্থান নেয়, তখন সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে বাধা পায়। ফলে দিনের আকাশ সাময়িকভাবে অন্ধকারে ঢেকে যায়। এই ঘটনা সাধারণত অমাবস্যার সময় ঘটে। সূর্যগ্রহণ তিন ধরনের—পূর্ণগ্রাস, বলয়গ্রাস এবং আংশিক সূর্যগ্রহণ।
কোথায় দেখা যাবে গ্রহণ
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা-এর তথ্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ শুরু হবে মরক্কো ও দক্ষিণ স্পেন থেকে। এরপর এটি আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মিশর এবং সৌদি আরবের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে।
সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের পূর্ণ অন্ধকার দেখা যাবে লাক্সর এবং আসওয়ান অঞ্চলে। প্রাচীন সভ্যতার জন্য বিখ্যাত এই এলাকাগুলোতে আকাশ অন্ধকারে ঢেকে থাকবে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে।
পৃথিবীর বাইরে সূর্যগ্রহণ
সূর্যগ্রহণ শুধু পৃথিবীতেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি গ্রহ ও উপগ্রহের অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল একটি প্রক্রিয়া। তাই অন্য গ্রহেও সূর্যগ্রহণ দেখা সম্ভব। বিজ্ঞানীদের মতে, গত বছর মঙ্গল গ্রহ এবং চাঁদেও সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
এই শতাব্দীর কিছু দীর্ঘ সূর্যগ্রহণ
বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী এই শতাব্দীতে আরও কয়েকটি দীর্ঘ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে—
* ৩০ এপ্রিল ২০৬০: ৫ মিনিট ১২ সেকেন্ড
* ২৪ আগস্ট ২০৬৩: ৫ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড
* ১১ মে ২০৮১: ৫ মিনিট ৪০ সেকেন্ড
* ৩ সেপ্টেম্বর ২০৮১: ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড
* ২২ মে ২০৯৬: ৬ মিনিট ৬ সেকেন্ড
সূর্যগ্রহণ কখনোই খালি চোখে দেখা উচিত নয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি চোখের রেটিনার স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। নিরাপদ পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ সৌর চশমা বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করা আবশ্যক।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



