বিভিন্ন দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৮৬ জন নির্বাচন করলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে জয়ী হয়েছেন মাত্র ৭ জন নারী। এটি ইতিহাসে সর্বনিম্ন না হলেও গত ২৫ বছরের মধ্যে নারীদের সবচেয়ে কম আসন পাওয়ার ঘটনা। ২০০১ সালেও সমান সংখ্যক নারী নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) উৎসবমুখর পরিবেশে সারাদেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে চলে ভোটগ্রহণ। শুক্রবার গভীর রাতে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সরকারি ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করে ইসি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল পরে দেয়া হবে। আর জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে আগেই।
এবারের নির্বাচনে যে ৭ জন নারী জয়ী হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৬ জনই বিএনপির। স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী হওয়া রুমিন ফারাহানা বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী। রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে হাঁস প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। তিনি ছাড়া বাকি ৬ জন হলেন মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খানম, ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর, নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমিন, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ফরিদপুর-৩ আসনে নায়াব ইউসুফ আহমেদ।
বিএনপি এবার মোট ১০ জন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। ওপরের ৬ জনের বাইরে নির্বাচিত হতে পারেননি যশোর-২ আসনে মোছা. সাবিরা সুলতানা, শেরপুর-১ আসনে সানসিলা জেবরিন, ঢাকা-১৪ আসনে সানজিদা ইসলাম তুলি ও মাদারীপুর-১ আসনে নাদিরা মিঠু।
এবারের নির্বাচনেও নারীদের মনোনয়নের হার আগের মতোই। জুলাই আন্দোলনের পর এটি বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও সেটি হয়নি। শেষ পর্যন্ত নারী অধিকারকর্মীদের চাপে পড়লেও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলো ৫ শতাংশ মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে একমত হয়। যদিও দলগুলো সেই অঙ্গীকারও পূরণ করেনি।
এবারের সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৫০। সেই হিসেবে সংসদে মোট নারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা হবে ৫৭। শতাংশের হিসাব ধরলে সেটি ১৬ শতাংশ। এবার নারীর তুলনায় পুরুষরা মনোনয়ন পেয়েছেন ২২ গুণ বেশি।
২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ৭ জন নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হন ৪৫ জন, মোট ৫২ জন। এরপর ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে জয়ী হন ২১ জন নারী। সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা নেয়া হয় পঞ্চাশে। আওয়ামী লীগের আমলে ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ সালের একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচনে ভোটে যথাক্রমে জয়ী হন ১৮, ২৩ ও ১৯ জন নারী।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩-১৯৭৫ মেয়াদের প্রথম জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব ছিল কেবল ১৫টি সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে। ১৯৭৯-১৯৮২ মেয়াদের দ্বিতীয় সংসদে সরাসরি নির্বাচিত ২ জন এবং ৩০টি সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে মোট ৩২ জন নারী সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৮৮-৯০ মেয়াদের চতুর্থ সংসদে কোনো সংরক্ষিত আসন ছিল না; তখন সরাসরি নির্বাচিত নারী সদস্য ছিলেন ৪ জন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
১৯৯১-১৯৯৫ মেয়াদের পঞ্চম সংসদে ৫ জন সরাসরি নির্বাচিত সদস্যসহ মোট নারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫ জনে। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিএনপির একতরফা ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩ জন নারী সরাসরি নির্বাচিত হন এবং সংরক্ষিত আসন ছিল ৩০টি। পরে সেই নির্বাচন বাতিল হলে একই বছরের জুনে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়; সেখানে ৮ জন নারী সরাসরি নির্বাচিত হন এবং মোট নারী প্রতিনিধির সংখ্যা হয় ৩৮ জন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


