একবার মার্কিন রাজনীতিবিদ ও প্রাক্তন পররাষ্ট্রসচিব হিলারি ক্লিনটন একটি জনসমাগমে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। কেন একজন সুস্থ মানুষ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান? বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন স্নায়ুবিজ্ঞানী ডগলাস ফিল্ড। তার বিশ্লেষণ বলছে—অজ্ঞান হওয়ার পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করে।

অজ্ঞান

Advertisement

১. রক্তপ্রবাহ কমে গেলে মস্তিষ্ক থেমে যায়
অজ্ঞান হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত না পৌঁছানো। শরীরের ওজনের মাত্র ৫ শতাংশ হলেও মস্তিষ্ক ব্যবহার করে প্রায় ২০ শতাংশ শক্তি। ফলে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তের প্রবাহ সামান্য ব্যাহত হলেই সমস্যা তৈরি হয়। হঠাৎ রক্তচাপ কমে গেলে বা হৃদযন্ত্র ঠিকভাবে কাজ না করলে মস্তিষ্কে রক্ত পৌঁছানো কমে যায়। এর পেছনে থাকতে পারে শারীরিক দুর্বলতা, আঘাতজনিত রক্তক্ষরণ কিংবা তীব্র মানসিক চাপ।

শারীরিক ও মানসিক ‘শক’: গুরুতর আঘাত পেলে শরীর একধরনের ‘শক’-এ চলে যায়। এতে রক্তচাপ কমে যায় এবং মানুষ অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারে। এটি আসলে শরীরের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা—যা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ভয়, আতঙ্ক বা রক্ত দেখার মতো পরিস্থিতিতেও অনেকেই অজ্ঞান হয়ে যান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি প্রাচীন জৈবিক প্রতিক্রিয়া, যা একসময় বেঁচে থাকার কৌশল হিসেবে কাজ করত।

২. অক্সিজেনের ঘাটতি: নীরব বিপদ
মস্তিষ্কে রক্ত পৌঁছালেও যদি সেই রক্তে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না থাকে, তাহলে অজ্ঞান হওয়া অবশ্যম্ভাবী। উচ্চ পর্বত, বিমানের উচ্চতা কিংবা ফুসফুসের সমস্যায় এমনটা হতে পারে। বিশেষ করে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি রক্তের অক্সিজেন বহনের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং খুব দ্রুত অজ্ঞান করে ফেলতে পারে।

৩. মস্তিষ্কের স্নায়ুতে ব্যাঘাত
মস্তিষ্কের স্নায়বিক কার্যক্রমে সমস্যা হলেও চেতনা হারানো ঘটে। অ্যালকোহল, বিষাক্ত পদার্থ, অ্যানেস্থেসিয়া বা রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি এর কারণ হতে পারে। এছাড়া মৃগীরোগ বা খিঁচুনির সময় স্নায়ুকোষের অস্বাভাবিক কার্যকলাপের ফলে মানুষ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

সুস্থ মানুষও কেন অজ্ঞান হন?
অজ্ঞান হওয়া মানেই গুরুতর অসুখ নয়। অনেক সময় সম্পূর্ণ সুস্থ ও ফিট মানুষও অজ্ঞান হয়ে পড়েন। যেমন, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর হঠাৎ দাঁড়ালে রক্ত পায়ে জমে যায় এবং মস্তিষ্কে কম পৌঁছায়। ফলে মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার ঘটনা ঘটে—যাকে বলা হয় ‘অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন’।

ভ্রমণে বাড়ে ঝুঁকি: বিমানে দীর্ঘ সময় বসে থাকা, শরীরে পানির ঘাটতি এবং কম আর্দ্রতা—সব মিলিয়ে অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ভ্রমণের সময় পর্যাপ্ত পানি পান, হাঁটাচলা এবং পা সচল রাখা জরুরি।

অজ্ঞান হওয়া: শরীরের ‘রিসেট বাটন’: মজার বিষয় হলো, অজ্ঞান হওয়া কখনও কখনও শরীরের জন্য উপকারীও হতে পারে। এতে শরীর মাটিতে শুয়ে পড়ে, ফলে মস্তিষ্কে দ্রুত রক্তপ্রবাহ ফিরে আসে। একে অনেকটা শরীরের ‘রিসেট বাটন’ বলা যায়। অজ্ঞান হওয়া সাধারণ ঘটনা হলেও বারবার ঘটলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। এটি হৃদরোগ, স্নায়ুরোগ বা অন্য কোনো জটিল সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

অজ্ঞান হওয়া শুধু একটি মুহূর্তের ঘটনা নয়—এর পেছনে কাজ করে জটিল শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। সচেতনতা ও সতর্কতাই পারে এই ঝুঁকি কমাতে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.