কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার দুপুর থেকে মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত কার্যত অচল হয়ে পড়ে দুই উপজেলার বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।

বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক সেবাও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পরিবার-পরিজন ও জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। কোথাও কোথাও সীমিত আকারে দুর্বল নেটওয়ার্ক থাকলেও অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় ওয়াইফাই ও ইন্টারনেট সেবা।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা জানান, কয়েকদিন ধরেই দিনে-রাতে মিলিয়ে মাত্র এক ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ মিলছে, সেটাও বারবার চলে যাচ্ছে। অথচ মাস শেষে বেশি বিল গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রৌমারীর যাদুরচর এলাকার বাসিন্দা সামিউল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ হয়ে গেছে। অনলাইনে কোনো কাজ করা বা যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ব্যাটারিচালিত যানবাহন চালকরা। অটোভ্যানচালক আব্দুল বাকি মিয়া বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছেন না, ফলে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। সামনে ঈদ থাকলেও আয়-রোজগার থেমে গেছে বলে তিনি জানান।
রাজিবপুর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী মো. শাহীন মাহমুদ জানান, ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতারা এলেও বিদ্যুৎ না থাকায় পণ্য দেখা যাচ্ছে না, এতে ব্যবসায় বড় ক্ষতি হচ্ছে।
একই বাজারের মিষ্টি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় বাধ্য হয়ে কুপিবাতির আলোয় কাজ করতে হচ্ছে, যা উৎপাদন ও বিক্রিতে সমস্যা তৈরি করছে।
শুধু রৌমারী-রাজিবপুর নয়, কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকাতেও দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। এতে শিক্ষা, ব্যবসা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রৌমারী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, মেইন লাইন চালু করা হয়েছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



