দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে মামলার জট দিন দিন বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি। এই বিশাল চাপ কমাতে সরকার বিভিন্ন আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মামলার জট কমাতে সরকার একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।
মন্ত্রী জানান, বিচার ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করা হয়েছে। এখন থেকে সমন জারি করা যাবে এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে। পাশাপাশি ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনে সাক্ষ্য গ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে, যা বিচার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
তিনি আরও বলেন, বিচারক ও আদালত সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে ৮৭১টি নতুন আদালত এবং ২৩২টি বিচারকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। বর্তমানে ১৫০ জন সিভিল জজ এবং ৫ শতাধিক কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া ২৩টি জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ই-ফ্যামিলি কোর্ট ও ই-বেইলবন্ড ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার চালুর মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে আরও ডিজিটাল করা হচ্ছে।
মামলা জট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা মধ্যস্থতা ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ৯টি আইনের মধ্যে ৭টির ক্ষেত্রে মামলা করার আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে সমঝোতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০টি জেলায় এই ব্যবস্থা চালু হওয়ায় নতুন মামলার সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।
পুরো বিচার ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে সরকার ‘ই-জুডিশিয়ারি’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে চালু হলে মামলা দাখিল থেকে রায় প্রদান পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


